• ঢাকা
  • রবিবার, ১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
Designed by Nagorikit.com

আইনের প্রতি তোয়াক্কা না করে মহাসড়কের পাশের জায়গা ইজারা দিলেন ইউএনও

কুমিল্লা জার্নাল

 

 

আল-আমিন কিবরিয়া
দেবিদ্বার প্রতিনিধি//

কুমিল্লা সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের উপর অবস্থিত দেবিদ্বার উপজেলা সদর থেকে মুরাদনগরের কোম্পানীগঞ্জ অংশে সিএনজি-অটোরিক্সা, এ্যাম্বুলেন্স-মাইক্রোবাসের স্ট্যান্ড হিসেবে ইজারা দিয়েছেন দেবিদ্বার পৌরসভার দায়িত্বে থাকা পৌর প্রশাসক ও দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডেজি চক্রবর্তী।

সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারী) পৌর প্রশাসকের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ওই নির্দেশনা দেয়া হয়। ওই নির্দেশনার সংবাদে সিএনজি চালকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

একাধিক সিএনজি চালক অভিযোগ করেন, তাদের থেকে গত ২ মাসের জিপি দাবী করেন এবং সিএনজি/ অটোবাইকের জন্য পৌরসভার নির্ধারিত টোকেন ২০ টাকা হলেও ইজারাদার ৫০/৮০ টাকা আদায় করেন এমনকি বার্ষিক রেজিষ্ট্রেশন ফি ৩ হাজার টাকা বাধ্যতামূলক আদায় করেন। না দিলে মারধর ও সড়কে উঠতে দেননা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেবিদ্বার পৌর প্রশাসক ও উপজলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডেজী চক্রবর্ত্তী স্বাক্ষরিত ৪৬.২০.১৯.৪০.৭০.০৭.০০৬.২৩/১০৯-১১৩ নং স্মারকে ২০/০২/২০২৩ইং তারিখের স্বাক্ষরকৃত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চলতি বছরের ৬টি স্ট্যান্ডের জন্য গত ১০ জানুয়ারী আহবানকৃত দরপত্রের মূল্যায়ন কমিটি সুপারিশ মূল্য ছিল ৭৩ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা এবং ভ্যাট ও করসহ ৯১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা।

সর্বেচ্চ দরপত্র আহবানকারীদের পৌর এলাকার সিএনজি/ইজিবাইক ষ্ট্যান্ড, দেবিদ্বার কার-মাইক্রো এ্যাম্বুলেন্স ষ্ট্যান্ডগুলো কুমিল্লা-সিলেট হাইওয়ে সড়ক সংশ্লিষ্ট ‘দেবীদ্বার পুরাতন বাজার থেকে- ওয়াহেদপুর সিএনজি/ইজিবাইক ষ্ট্যান্ড, দেবিদ্বার জেলা পরিষদ মার্কেটের উত্তর গলি থেকে কোম্পানীগঞ্জ রোডের সিএনজি/ইজিবাইক ষ্ট্যান্ড, দেবিদ্বার নিউমার্কেট রহমানিয়া সুপার মার্কেটের সামনে হতে কুষ্ণপুর রোডের সিএনজি/ ইজিবাইক ষ্ট্যান্ড, দেবিদ্বার ফুলগাছ তলা থেকে খলিলপুর রোডের সিএনজি/ ইজিবাইক ষ্ট্যান্ড, দেবিদ্বার কার-মাইক্রো এ্যাম্বুলেন্স সরকারী হাসপাতাল গেইট স্ট্যান্ড, দেবিদ্বার- চান্দিনা রোডস্থ বিআরডিবি আওতাভ‚ক্ত ইউসিসিএর জায়গায় সিএনজি/ ইজিবাইক ষ্ট্যান্ড, ইজারা প্রদান করা হয়েছে।
এ ৬টি স্ট্যান্ড’র মধ্যে দেবিদ্বার-চান্দিনা সড়কের বিআরডিবি’র আওতাভ‚ক্ত ইউসিসি এর স্ট্যান্ড ছাড়া বাকী সবগুলোই ‘কুমিল্লা- সিলেট হাইওয়ে সড়কের উপর প্রতিষ্ঠিত হলেও স্ট্যান্ড’র নাম পাল্টে ইজারা দেয়া হয়েছে। ওই ৫টি স্ট্যান্ড নিউমার্কেট থেকে সরকারী হাসপাতাল ও থানা গেইটের ৫শত গজের মধ্যে স্ট্যান্ডগুলোর অবস্থান।

উল্লেখ্য এ স্ট্যান্ডগুলি ইজারার নিয়মবহির্ভ‚ত করে একাধিক জায়গা হতে জিপি টোকেন মানির নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা, হাইওয়ে সড়কে যানজটের ভোগান্তি রুখতে উপায়ান্ত না পেয়ে এবং দেবীদ্বার পৌর সভার ছয়টি স্ট্যান্ডের জন্য গত ২ জানুয়ারী নতুন করে পৌর কর্তৃপক্ষ ইজারা বিজ্ঞপ্তির আহবান করলে ওই ইজারার বিরুদ্ধে দেবিদ্বার পৌর এলাকার দক্ষিণ ভিংলাবাড়ী গ্রামের মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. সোহেল রানা নামে এক ব্যবসায়ী উচ্চ আদালতের স্মরণাপন্ন হয়েছেন। এরই প্রেক্ষিতে তিনি গত ৯ জানুয়ারী উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করলে উচ্চ আদালতের বিচারপতি জাফর আহেমদ ও বিচারপতি মো. বশিরুল্লাহর দ্বৈত বেঞ্চ আবেদনের শুনানি শেষে ওই ৬টি স্ট্যান্ড ইজারাদানের কার্যক্রম ৬ মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। (উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন নম্বর ৩২১/২০২৩)।

হাইকোর্টের ওই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে দেবিদ্বার পৌর এলাকার তরিকুল ইসলাম সুমন নামে এক ইজারাদার সুপ্রিম কোর্টে ২৫৪/২০২৩ নং সিভিল পিটিশনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট ঘোষিত স্থগিতাদেশটি ৮ সপ্তাহের জন্য স্থগিতাদেশ দেন। যার মেয়াদ ৩১ জানুয়ারী থেকে (২৭ মার্চ পর্যন্ত) ৮ সপ্তাহ বহাল থাকবে। সুপ্রিম কোর্ট দরপত্রের উপর ৮ সপ্তাহ স্থগিতাদেশ প্রত্যার অর্থাৎ পূর্বের রায় স্থগিত করলেও হাইওয়ের সড়কের উপর ইজারা প্রদানের কোন দিক নির্দেশনা দেয়নি। সোহেল রানার রীট আবেদনে হাইকোর্ট কর্তৃক গত ৯ জানুয়ারী ইজারা প্রদান স্থগিত করলেও, স্থগিতাদেশের ১দিন পর অর্থাৎ ১০ জানুয়ারী আহবানকৃত দরপত্রের আলোকে ওই ইজারা দেয়া হয়।

এ ব্যপারে দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, উপজেলা সমন্বয় কমিটির মিটিং এবং আইনশৃংখলা মিটিং-এ জনভোগান্তি, অতিরিক্ত টুল আদায় এবং হাইওয়ে সড়কে যানজট নিরসনে সর্বসম্মতিক্রমে ইজারা প্রদান স্থগিত করা হয়েছে। পৌরসভার কর্তৃত্বে যেহেতু পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেহেতু তাকেও হাইওয়ে সড়কের উপর ইজারা না দেয়ার আহবান করেছি, তিনি হাইওয়ে সড়কেই ৫টি স্ট্যান্ড ইজারা দিলেন।

এ ব্যাপারে পৌরপ্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডেজী চক্রবর্তীকে একাধিকবার ফোন দিলেও ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে পৌর সচিব মো. ফখরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এ বিষয়ে কোন তথ্য না দিয়ে তথ্য জানতে তথ্য প্রযুক্তি আইনে আবেদন করতে বলেন।

 

জাহিদ/কুজা

আরও পড়ুন

  • কুমিল্লা এর আরও খবর