নিজস্ব প্রতিবেদন।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের আশ্রাপুর গ্রামে এক এতিম পরিবারের গরু চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। চুরির ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে সালিশে অভিযুক্তদের জরিমানা করা হলেও, এখনো আইনি প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, গত ২৪ মার্চ রাতে তাদের একমাত্র জীবিকার উৎস গরুটি চুরি হয়ে যায়। এ ঘটনায় তারা চৌদ্দগ্রাম থানায় অভিযোগ দিতে গেলে দায়িত্বরত ওসির বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। তাদের দাবি, রাত ১টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত থানায় বসিয়ে রাখার পরও কোনো মামলা বা অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি।পরদিন ২৫ মার্চ থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের লিখিত স্টেটমেন্ট ছাড়া জিডি বা মামলা নেওয়া হবে না। এতে ভুক্তভোগীরা আরও ভোগান্তিতে পড়েন।এদিকে, উজিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের উদ্যোগে গ্রামে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করে গ্রামের সামনে তাদের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুল হাই এখনো এই রায়ের লিখিত স্বীকৃতি দিতে রাজি হচ্ছেন না, ফলে আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধা তৈরি হয়েছে।অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন—মাদক ব্যবসায়ীর লাইনম্যান মামুন মিয়া (২২), পিতা: মৃত মনির মিয়া, গ্রাম: আশ্রাপুরআমিন মিয়া (ঘরজামাই), গ্রাম: আশ্রাপুরজামাল হোসেন (৩০), পিতা: আমিন মিয়া, গ্রাম: আশ্রাপুরস্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ও চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত। তবে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, “আমরা এতিম মানুষ, এই গরুই ছিল আমাদের একমাত্র সম্বল। চুরির পর থানায় গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছি, এখনো কোনো ন্যায়বিচার পাইনি।”এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
[sharethis-inline-buttons]
আপনার মতামত লিখুন :