• ঢাকা
  • সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৫ মার্চ, ২০২৬
Designed by Nagorikit.com

চৌদ্দগ্রামের কালিকাপুরে স্বপন মেম্বারের নেতৃত্বে অবাধে মাটি কাটার অভিযোগ, হুমকির মুখে কৃষিজমি ও পরিবেশ।

কুমিল্লা জার্নাল
[sharethis-inline-buttons]

স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৩ নং কালিকাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমির উর্বর মাটি বা টপ সয়েল কাটাকে কেন্দ্র করে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় ইউপি সদস্য তৌহিদুল ইসলাম স্বপন হাজারীর নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে কৃষিজমি, পুকুর-খাল এবং সরকারি জায়গা থেকে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালিকাপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডসহ আশপাশের একাধিক স্থানে দিনের বেলাতেও প্রকাশ্যে এবং রাতের আঁধারে ব্যাপকভাবে কৃষিজমির মাটি কাটা হচ্ছে। এসব মাটি ড্রাম ট্রাক, ট্রাক্টর ও অন্যান্য ভারী যানবাহনের মাধ্যমে দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিদিনই অসংখ্য ট্রাক্টর ও ড্রাম ট্রাকে করে এই মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে।এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করেন, শুধু কৃষিজমিই নয়—পুকুর, খাল এবং সরকারি বন বিভাগের জমি থেকেও মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে করে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।ভুক্তভোগী কৃষকরা অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে জমির মালিকরা তাদের জমির মাটি বিক্রি করতে না চাইলে তাদেরকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং চাপ প্রয়োগ করা হয়। প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও জানিয়েছেন তারা।এদিকে দিন-রাত ভারী যানবাহনের চলাচলের কারণে এলাকায় চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে গভীর রাতে ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টরের বিকট শব্দে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে পারছেন না। এতে করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ভোগান্তি বাড়ছে।অন্যদিকে ভারী যানবাহনের অতিরিক্ত চলাচলের কারণে ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে এসব সড়ক দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষিজমির উপরের উর্বর স্তর বা টপ সয়েল কেটে নেওয়া হলে সেই জমির উৎপাদনক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। এতে করে ভবিষ্যতে ওই জমিতে ফসল উৎপাদন কঠিন হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে কৃষি ব্যবস্থা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে।এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং অবিলম্বে অবৈধভাবে টপ সয়েল কাটা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য তৌহিদুল ইসলাম স্বপন হাজারী বলেন, “আমি আগে মাটির ব্যবসা করতাম, এখন আর করি না। যদি কেউ অবৈধভাবে মাটি কাটে তাহলে প্রশাসন তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারে।”

[sharethis-inline-buttons]

আরও পড়ুন

  • লিড এর আরও খবর