• ঢাকা
  • রবিবার, ২৩শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
Designed by Nagorikit.com

চৌদ্দগ্রামে ক্লু-লেস অটোচালক রাসেদ হত্যার রহস্য উদঘাটন; খুনি আটক

কুমিল্লা জার্নাল

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

 

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে থানা পুলিশের বিশেষ তৎপরতায় ক্লু-লেস অটোচালক রাসেদ হত্যার মাত্র ১৩ দিনের মাথায় খুনি খাইরুল আলম শাকিল (২৭) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। আটককৃত শাকিল উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের ধনুসাড়া গ্রামের আবু বক্কর ছিদ্দিকের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত শাকিল হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করেছে বলে জানায় পুলিশ। বিষয়টি পুলিশের বিশেষ সাফল্য হিসেবে দেখছেন চৌদ্দগ্রাম পুলিশ প্রশাসন। বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে থানা হলরুমে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জাহিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ রঞ্জন চাকমা, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব চক্রবর্তী, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মেহেদী হাসান প্রমুখ।

 

প্রেস ব্রিফিংয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জাহিদুল ইসলাম জানান, ‘গত ১৯ জানুয়ারি বিকালে উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের শামুকসার এলাকার বোয়ালজুরি খালের পাশের ফসলি জমি থেকে উদ্ধারকৃত রাসেদ মিয়া (১৮) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান বিপিএম (বার) মহোদয়ের নির্দেশনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা রুজুর পর থানা পুলিশ আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ও বিশ্বস্ত গুপ্তচর নিয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা অব্যাহত রাখে। এছাড়া মুন্সীরহাট বাজার থেকে ঘটনাস্থল পর্যন্ত বিভিন্ন রাস্তা ও বাজারে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে রাসেদ হত্যার সাথে সংশ্লিষ্ট খাইরুল আলম শাকিল নামে এক ব্যক্তিকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে গত মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে ঘোলপাশা ইউনিয়নের ধনুসাড়া গ্রামের তার নিজ বসতবাড়ী থেকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে জানায়, ধারের ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে না পারায় সে ছিনতাই করার উদ্দেশ্যে অটোচালক রাসেদকে ২৭০ টাকা ভাড়ার চুক্তিতে মুন্সীরহাট বাজার থেকে সুয়াগাজী যাওয়ার কথা বলে শামুকসার এলাকার নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। পরে ছিনতাইকালে ধ্বস্তাধ্বস্তির এক পর্যায়ের শাকিল রাসেদকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই রাসেদের মৃত্যু হয়। পরে শাকিলের দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার বাড়ী থেকে হত্যারকান্ডের দিন তার পরিধেয় পোষাক এবং ঘটনাস্থল বোয়ালজুরি খাল থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি কর্দমাক্ত চাকু (সুইচ গিয়ার) উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়। বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে আটককৃত শাকিলকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।

 

পুুলিশের তৎপরতায় মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে চাঞ্চলকর একটি হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন হওয়ায় সচেতন মহলের প্রশংসায় ভাসছে পুলিশ। পুলিশের এমন ইতিবাচক কর্মকান্ড অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করছে চৌদ্দগ্রামবাসী।

আরও পড়ুন

  • কুমিল্লা এর আরও খবর