• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৯ জুলাই, ২০২৬
Designed by Nagorikit.com

চৌদ্দগ্রামে প্রভাবশালীর যাতায়াতে সমস্যা দেখিয়ে জোরপূর্বক বিধবার বাড়ির ভাউন্ডারী দেয়াল ভাংচুর

কুমিল্লা জার্নাল
[sharethis-inline-buttons]

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রভাবশালীদের যাতায়াতের সমস্যা বলে জোরপূর্বক বিধবার মালিকানাধীন বাড়ির একটি ভাউন্ডারী দেয়াল ভাংচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিধবা নারী সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে ছয়জনের বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করেছে। উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের সাঙ্গিশ্বর গ্রামের পূর্বপাড়া ভুঁইয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিন পরিদর্শন করে দেয়াল, গোয়াল ঘর ভাংচুর ও গাছপালা কেটে ফেলাসহ কিছু স্থাপনা ভাঙার সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলায় উল্লেখ করা হয়, সাঙ্গিশ্বর গ্রামের ভুঁইয়া বাড়ির আবদুল ওহাব মৃত্যুর আগে পুকুরের পূর্ব পাশের সীমানায় পাকা ভাউন্ডারী দেয়াল নির্মাণ করেন। ভাউন্ডারীর ভিতরে গোয়াল ঘর ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা রোপন করেন।

পাশ্ববর্তী বাড়ির নেয়ামত উল্লাহ, আবুল বশর, আবদুল মান্নান, রাফি, মেহেদী হাসান বাবু, সিফাত গং দীর্ঘদিন যাবত সুফিয়া বেগমের মালিকীয় জায়গায় চলাচলের রাস্তা করার জন্য বিভিন্নভাবে পাঁয়তারা করে আসছিল। একপর্যায়ে আবদুল ওহাব জীবিত থাকাকালীন সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করলে নেয়ামত উল্লাহ গং কারো কোন কথা তোয়াক্কা করেনি।

২০২১ সালে নেয়ামত উল্লাহ গং সুফিয়া বেগম ও তার মরহুম আবদুল ওহাবের উপর বর্বর হামলা চালিয়েছিল। পরবর্তীতে আবদুল ওহাব বাদি হয়ে কুমিল্লার আদালতে নেয়ামত উল্লাহ গংয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। আদালত উভয়ের কাগজপত্র পর্যালোচনায় করে আবদুল ওহাবে পক্ষে রায় প্রদান করেন। নেয়ামত উল্লাহ ও মেহেদী হাসান বাবু ভবিষ্যতে জায়গাটি নিয়ে কোন ঝামেলা এবং শান্তি ভঙ্গ করবে না মর্মে আদালতে মুচলেখা প্রদান করে জামিন পায়। ভুক্তভোগী বিধবা নারী সুফিয়া বেগমের দুই ছেলে সৌদি আরব থাকায় তিনি বাড়িতে একা এবং চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

কিন্তু গত ৫ জুলাই রোববার সকালে নেয়ামত উল্লাহ গং পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ধারালো দা, ছেনি, গ্র্যান্ডিং মেশিন, হেমার, হাতুড়ি দিয়ে আবদুল ওহাবের মালিকানাধীন সীমানার পাকা দেয়াল ভাংচুর করে এবং সীমানা চিহ্ন নষ্ট করে। তখন আবদুল ওহাবের স্ত্রী সুফিয়া বেগম তাদেরকে বাধা দিলে উল্টো এলোপাতাড়ি হামলা চালিয়ে শরীরের বিভিন্নস্থানে জখম ও শ্লীলতাহানি করে।

এছাড়া গলায় থাকা একটি ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে দুপুরে নেয়ামত উল্লাহ গং সুফিয়া বেগমের বাড়িতে প্রবেশ করে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হুমকি-ধমকি প্রদর্শন করে। এক পর্যায়ে ঘরের দরজা খুলতে বললে সুফিয়া বেগম অস্বীকৃতি জানালে গোয়ালঘরের টিনের বেড়া ও বিভিন্ন জাতের গাছপালা কেটে ক্ষতিসাধন করে।

ওই সময় আতঙ্কে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে ৯৯৯-এ কল করে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশকে অবহিত করে। পুলিশ আসার কথা শুনে হামলাকারীরা সুফিয়া বেগমকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।অভিযোগের বিষয়ে মেহেদী হাসান বাবু বলেন, এটা পুরোনো রাস্তা। আমরা এদিক দিয়ে চলাচল করতাম। রাস্তার জায়গাসহ ক্রয় করেছি। তাদের সাথে মনোমালিন্যের কারণে দেয়াল নির্মাণ করে রাস্তা বন্ধ করে দেয়। সেই দখলকৃত রাস্তা রোববার পুনরুদ্ধার করেছি।

তবে জায়গা বিক্রেতা ইমামুল হক বলেন, আমরা ৪৪ শতক জায়গা নেয়ামত উল্লাহ গংদের কাছে বিক্রি করেছি। কিন্তু সেটা রাস্তা ও দেয়ালের বাইরের অংশ। এখন নেয়ামত উল্লাহ গং দেয়ালের ভিতরের অংশ নিজেদের দাবি করে সন্ত্রাসীদের দ্বারা জোরপূর্বক দেয়াল ভাংচুর ও দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু সরেজমিনে এখানে কোন রাস্তা নেই।

চিওড়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। কোন পক্ষ অভিযোগ করেনি। সমস্যাপূর্ণ জায়গায় সরকারি রাস্তা নেই।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার উপ-পরিদর্শক মোরশেদ আলম বলেন, ‘সুফিয়া বেগম বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’।

[sharethis-inline-buttons]

আরও পড়ুন