• ঢাকা
  • রবিবার, ১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২২ ডিসেম্বর, ২০২১
সর্বশেষ আপডেট : ২২ ডিসেম্বর, ২০২১
Designed by Nagorikit.com

তীব্র শীতে কুমিল্লায় গরম কাপড়ের দোকানে বেড়েছে ভীড়

কুমিল্লা জার্নাল

রুবেল মজুমদার।
পৌষের প্রথম সপ্তাহ জেঁকে বসেছে শীত। কুমিল্লা জেলাজুড়ে তাপমাত্র কম থাকায় বেড়েছে শীতের অনুভূতি। তিনদিন ধরে শীত পড়ছে। বিশেষ করে ভোরে ও সন্ধ্যায় শীত অনুভূত হচ্ছে বেশি। ঘরের বাইরে বের হলে গরম কাপড় চাপাতে হচ্ছে গায়ে।

 

 

কুমিল্লা আবহাওয়া অফিস জানায়, বুধবার জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া ডিসেম্বরজুড়ে থাকতে পারে শীতের আধিক্য। এদিকে শীত বাড়ার সাথে সাথে বেড়েছে গরম কাপড়ের চাহিদা। বেচা-কেনাতে জমজমাট হয়ে উঠছে ফুটপাত থেকে শুরু করে বিভিন্ন পোশাক বিপণী বিতানে। বাড়ছে ক্রেতার ভিড়। সকাল থেকে শুরু করে রাত ১১ টায় পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা। কয়েকদিনে শীত বাড়ার সাথে সাথে ক্রেতাদের উপস্থিতিই বেড়েছে মার্কেটে মার্কেটে।

 

কুমিল্লা নগরীর প্রাণকেন্দ্র কান্দিপাড়, পূবালী চত্বরসহ বিভিন্ন মার্কেটের পোষাক বিক্রির দোকানগুলোতে থরে থরে সাজানো রয়েছে নানা ডিজাইনের শীত নিবারণের পোষাক। এসব মার্কেটে যারা শীতের পোষাক কেনাকাটা করছেন তাদের বেশিরভাগ ক্রেতাই উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের। আর নিম্নবিত্ত বা স্বল্প আয়ের লোকজন ভিড় করছে নগরীর ফুটপাথের গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে। ফুটপাথে এখন মধ্যবিত্তরাও ভিড় করেন। কারণ কমদামে ব্যতিক্রমী শীতবস্ত্র মিলে ফুটপাথে।

 

জেলার চৌদ্দগ্রাম, ব্রাহ্মণপাড়া, বুড়িচং, কুমিল্লা আদর্শ সদর, মুরাদনগর, হোমনা, তিতাস, মেঘনা, চান্দিনা, বরুড়া, লাকসাম, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ, লাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ, দেবিদ্বার, লালমাইসহ ১৭উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে পৌষের শীতে সরগরম গরম কাপড়ের হাট।

 

গতকাল বুধবার (২২ ডিসেম্বর) নগরীর মার্কেটগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, দেশি-বিদেশি শাল, চাদর, স্যুয়েটার, মেয়েদের বিভিন্ন ডিজাইনের কার্ডিগানের দাম গত বছরের তুলনায় প্রতিটিতে ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা বেড়েছে।

 

সাত্তার খান শপিং কমপ্লেক্সে স্যুয়েটার কিনতে আসা মামুন নামের ক্রেতা জানান,কয়েকদিন ধরে পুরোমাত্রায় শীত পড়া শুরু হয়েছে। তাই গরম কাপড় কিনতে আসছি। কিন্তু দামে মিলছে না।

 

এদিকে ছাতিপট্টি, রাজগঞ্জ, কান্দিরপাড় রেলস্টেশন, রেইসকোর্স, পুলিশ লাইন, চকবাজার এলাকায় ফুটপাথে শীতবস্ত্র বিক্রির পসরা সাজিয়ে বসেছে হকাররা। সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলছে গরম কাপড়ের কেনাবেচা। হকারদের হাঁকডাকে মুখরিত ফুটপাথ।

 

পথচারীরা চলতে গিয়ে একবারের জন্য হলেও বেছে নিচ্ছেন নিজের ও পরিবারের ছোট বড়দের জন্য গরম কাপড়। কেউ একদামে কিনছেন আবার কেউ করছেন দর কষাকষি।

 

কান্দিরপাড় এলাকার আনিক নামের বিক্রেতা বলেন, সোয়েটারের দাম মানভেদে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা, ছেলেদের সোয়েটার ৮০ থেকে ৫০০ টাকা, ছেলেদের জ্যাকেট ১৮০ থেকে ৭০০ টাকা, বাচ্চাদের সোয়েটার ২২০ থেকে ৫০০ টাকা, হাতের মোজা ৪০ থেকে ১০০ টাকা।

 

এছাড়া শিশুদের কানটুপি ৪০ থেকে ২০০ টাকা ও মাফলার ৫০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি করছে বলে জানান তিনি। কান্দিরপাড় ফুটপাথে শীতের কাপড় কিনতে আসা তানিয়া বেগম জানান, তিন সন্তান ও নিজের জন্য গরম পোশাক কিনতে এসেছি। গত শীতে ভালো গরম কাপড় না থাকায় আমার সন্তানরা কষ্ট পেয়েছে। ৬০ টাকায় আমার জন্য এবং বাচ্চাদের জন্য ৮০ টাকায় সোয়েটার কিনেছি।

 

নগরীর ফুটপাথগুলোতে গার্মেন্টসের কমদামের বিভিন্ন আইটেমের শীতবস্ত্র পাওয়া গেলেও গাইটের গরম কাপড়ই বেশি কিনছেন লোকজন। গাইটের কাপড় বিদেশি। থাকে নানা ডিজাইন। এছাড়া কুমিল্লার ১৭ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোতেও গাইটের বিদেশি গরম কাপড়ের বেচাকেনা জমে উঠেছে। গাইটের গরম কাপড় বেচাকেনার দৃশ্য জানান দিচ্ছে শীতবস্ত্রের কদর কতোটা বেড়েছে।

আরও পড়ুন

  • কুমিল্লা এর আরও খবর