• ঢাকা
  • রবিবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১৪ মার্চ, ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট : ১৪ মার্চ, ২০২৩
Designed by Nagorikit.com

নতুন সাজে ভিক্টোরিয়া কলেজের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী

কুমিল্লা জার্নাল

জাহিদ হাসান নাইম ।।
দীর্ঘ সময় ধরে অবহেলায় পড়ে থাকার পর নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের মোতাহার হোসেন লাইব্রেরী। শ্রেণীকক্ষে পাঠদান চললেও লাইব্রেরীর যেন একটা অভাব থেকেই গিয়েছিলো শিক্ষার্থীদের। কিন্তু, সেই অভাব গোছাতেই আবারো নতুন রূপে সাজানো হচ্ছে ভিক্টোরিয়া কলেজের মোতাহার হোসেন লাইব্রেরী। বই পড়ুয়াদের মধ্যে এই আক্ষেপ কাজ করতো সবসময়। কিন্তু এবার সেই আক্ষেপ শেষ হবার পালা।
পড়ার জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত স্থান ও পরিবেশ। আর এই কথা মাথায় রেখেই শিক্ষার্থীদের জন্য নানান কারুকাজ ও আধুনিকতার ছোঁয়া দিয়ে নতুন করে তৈরী করা হয়েছে এই লাইব্রেরী।
কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানা যায়, লাইব্রেরীতে সংগৃহীত রয়েছে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশী বই। এগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই দুর্লভ। কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো নিয়ে লেখা কিছু বই এখনো লাইব্রেরীতে সংগৃহীত রয়েছে। বর্তমানে সংস্কার কাজ করে লাইব্রেরীকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিখ্যাত লাইব্রেরীগুলোর সাথে অনলাইনে যুক্ত হওয়ার ব্যবস্থা থাকছে। যাতে করে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিদেশী লেখকের বইও বিনামূল্যে পড়তে পারবে। এছাড়াও শিক্ষকদের জন্য রয়েছে আলাদা কর্ণার। লাইব্রেরীর একটি অংশে রয়েছে গবেষকদের জন্য বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা করার সুযোগ। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে যাতে নতুন প্রজন্ম জানতে পারে, তার জন্য রয়েছে বঙ্গবন্ধু কর্ণার। এছাড়াও রয়েছে, যেসব শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় অংশ নিবে তাদের জন্য প্রতিযোগীতা পরীক্ষা প্রস্তুতিমূলক সহায়ক কর্ণার।
শতাধিক আসন যুক্ত এই লাইব্রেরীর সংগ্রহশালায় রয়েছে অনেক বিখ্যাত লেখকদের বই। যেখানে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি রয়েছে বাহ্যিক বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞানার্জনের সুবিধা।
প্রায় দীর্ঘদিন অবহেলায় অবহেলিত ছিলো এই লাইব্রেরী। কলেজ প্রশাসনের এই চমৎকার উদ্যোগে আনন্দে উচ্ছাসিত কলেজের শিক্ষার্থীরা। একদিকে খেলার মাঠ সংস্কারের কাজ, অন্যদিকে পাঠাগার সংস্কার এ যেন পুরো জমে ক্ষীর হওয়ার মতো অবস্থা।
গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী মানসিবের কাছে এই লাইব্রেরী সংস্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বই পড়তে বরাবরই ভালোবাসি। আর এই কারণেই লাইব্রেরী যেন আমাকে কাছে টানে। তাই কুমিল্লার বিভিন্ন পাবলিক লাইব্রেরীগুলোতে ছুটে যেতাম। আক্ষেপ ছিলো আমার কলেজে লাইব্রেরী থাকলেও তার ছিলো না কোনো উপযুক্ত পড়ার পরিবেশ। কিন্তু, এখন আমার আর কোনো আক্ষেপ নেই, নিজের কলেজে, নিজের লাইব্রেরীতে বসেই বই পড়তে পারবো।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী অনন্যা চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে চাইলেও লাইব্রেরীতে যেতে পারতাম না ভয়ে। পর্যাপ্ত সংস্কার ছিলো না বলে, ভিতরে ভুতুড়ে লাগতো আমার কাছে। এখন লাইব্রেরীতে না চাইলেও বারবার যেতে হবে। খুব খুশী লাগছে এটা ভেবে যে, আমাদের কলেজেও এখন পড়ার লাইব্রেরী আছে।
লাইব্রেরী সংস্কার বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু জাফর খানের কাছে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়ার মানকে আরো বাড়িয়ে তুলতে আমরা লাইব্রেরীকে আধুনিকায়ন করেছি। এর ফলে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের পরিধি আরো বাড়বে। তারা জ্ঞানলাভে আরো উদ্বুদ্ধ হবে। আমরা এই লাইব্রেরীকে বাংলেদেশের একটি অন্যতম সমৃদ্ধ লাইব্রেরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
লাইব্রেরী উন্নয়ন ও সংস্কার কমিটির আহ্বায়ক শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক মঈন উদ্দিন বলেন,‘আমরা শিক্ষার্থীদেরকে লাইব্রেরীমুখী করতে চাই। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা অবসর সময়ে এখানে আসবে, পড়াশোনা করবে। তারা এখানে বসেই দেশের বাহিরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেল পড়তে পারবে, যা তাদের উচ্চ শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।এ ছাড়া পুরো লাইব্রেরী উন্নয়ন কার্যক্রমকে ডিজিটালাইজড করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এছাড়াও, এই লাইব্রেরীতে প্রতিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আলাদা বসার স্থান। রয়েছে বিভিন্ন রকম আলোকসজ্জা, যা লাইব্রেরীর সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। দক্ষিণ বাংলার শ্রেষ্ঠ এই বিদ্যাপিঠে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চটুকু দিতে কলেজ প্রশাসন বদ্ধ পরিকর।

আরও পড়ুন

  • কুমিল্লা এর আরও খবর