• ঢাকা
  • শনিবার, ১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি, ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট : ১৩ জানুয়ারি, ২০২৩
Designed by Nagorikit.com

নিয়োগ না পেয়েও ২২ বছর ধরে সরকারি চাকরি!

কুমিল্লা জার্নাল

 

জাহিদ হাসান নাইম||

তাজুল ইসলাম। নাম পরিচয় পাল্টিয়ে দীর্ঘ ২২ বছর ধরে কারারক্ষী পদে চাকরি করে গেছে কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দক্ষিণ শশিদল গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে তাজুল ইসলাম (৪২)।

২০০১ সালে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানার শাহজাহানপুর গ্রামের মোঃ নুর উদ্দিন খান এর ছেলে মোঃ মঈন উদ্দিন
কারারক্ষী পরীক্ষায় নিয়োগ প্রাপ্ত হন। তার নিয়োগ পত্র ডাকযোগে প্রেরণ করা হলে প্রতারক তাজুল ইসলাম মঈন উদ্দিন খানের বাড়িতে গিয়ে নিজেদেরকে কারারক্ষীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেয়। এসময় প্রতারক মঈন উদ্দিন কে চাকরী করতে হলে কিছু টাকা দিলে নিয়োগপত্র পাবে, এমন কথা বলে।

এতে নিয়োগপ্রাপ্ত মঈনউদ্দিন ঘুষ দিয়ে চাকরী করবে না বলে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে প্রতারক তাজুল ইসলাম তার নিয়োগ পত্র নিয়ে চলে যায়। এই নিয়োগপত্র ব্যবহার করে, তাজুল ইসলাম পরবর্তীতে চাকরীতে যোগদান করে। ২০১৫ সালে স্কেলজনিত কারণে জাতীয় পরিচয় পত্র প্রয়োজন হলে, প্রতারক তাজুল ইসলাম মঈন উদ্দিন এর নাম ঠিকানা দিয়ে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দেয়।

পরবর্তীতে ২০২০ সালে, সিলেট বিভাগে ২০০ জন কারারক্ষী সিলেটের স্থায়ী বাসিন্দা না হয়েও কারারক্ষীর কাজ করে আসছে, এমন খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে, সরব হয় কর্তৃপক্ষ। শুরু হয় যাচাইবাছাই। এরই ধারাবাহিকতায় মঈন উদ্দিন নামের কারারক্ষীর নাম ঠিকানা যাছাই করতে গিয়ে দেখা যায়, প্রকৃত মঈন উদ্দিন বর্তমানে ফার্মেসী দোকানে ঔষধের ব্যবসা করেন।

বৃহস্পতিবার সকালে র‍্যাবের বিশেষ অভিযানে কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া থানার ব্রাহ্মণপাড়া বাজার এলাকা হতে এ প্রতারক কে গ্রেফতার করে র‍্যাব।

শুক্রবার (১৩ জানুয়ারী) সকালে কুমিল্লা নগরীর শাকতলা র‍্যাব -১১ সিপিসি-২ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‍্যাব -১১ সিপিসি-২ কোম্পানি অধিনায়ক সাকিব আহমেদ।

এ সময় তার কাছ থেকে তিন সেট কারারক্ষী ইউনিফর্ম , একটি কারারক্ষী জ্যাকেট , রেইনকোট , ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্রসহ উদ্ধার করা হয়।

কোম্পানি অধিনায়ক সাকিব আহমেদ জানান, মঈন উদ্দিন ২০২১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর চাকরীতে যোগদানের আবেদন করেন। এসময় প্রতারক তাজুল ইসলাম কর্তৃক বিভিন্ন হুমকি ও ১০ লক্ষ টাকা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়।

মঈন উদ্দিন এতে অস্বীকৃতি জানায় ও উচ্চ আদালতের দারস্থ হন। পরবর্তীতে নানা তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১২ জানুয়ারী এই প্রতারকককে গ্রেফতার করে র‍্যাব ১১ সিপিসি-২।

 

 

আরও পড়ুন

  • কুমিল্লা এর আরও খবর