• ঢাকা
  • শনিবার, ১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯ মার্চ, ২০২২
সর্বশেষ আপডেট : ৯ মার্চ, ২০২২
Designed by Nagorikit.com

বাড়ি ফেরা হলো না তিন বান্ধবীর

কুমিল্লা জার্নাল

রুবেল মজুমদার/গাজী মামুন
রিমা,তাসফিয়া,মীম। তিন বন্ধুবীর সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সকালে স্কুল থেকে আসা পথে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হন।
বুধবার (৯ মার্চ) বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে বিজয়পুর রেলক্রসিং এলাকায় ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেসে ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা প্রথমে তাসফিয়া তার পর মীম ও রিমা মৃত্যুবরণ করেন ।
এ ঘটনার ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে ঘন্টাখানিক। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে।জেলা পুলিশ ও জেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
নিহতরা তিন জনের বাড়ি উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নেরর দুর্গাপুর গ্রামের ব্যাপারি বাড়ির রিপন মিয়ার মেয়ে রিমা আক্তার লিমা (১১),একই বাড়ির বুলু মিয়ার মেয়ে তাসফিয়া আক্তার (১১) ও মামুন মিয়ার মেয়ে মিম আক্তার (১১)।
ঘটনার প্রতক্ষ্যদর্শী হাজী মো. সেলিম জানান,একই সময়ে দুটি ট্রেন দুই লাইন দিয়ে পার হওয়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।দুদিক থেকে দুটি ট্রেন আসায় শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি বুঝতে উঠতে পারেনি। একটি লাইনে ট্রেন দেখে তারা আরেক লাইন দিয়ে হাঁটার সময় পেছন থেকে আসা ট্রেনটিতে কাটা পড়ে।
সরেজমিনের গিয়ে দেখা যায়, নিহতদের পরিবারে শোকের মাতম বইছে। স্বজনরা আহাজারি করতে করতে মূর্ছা যাচ্ছেন। বাড়ির ও এলাকার মানুষ তাদেরকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
মীম আক্তারে মা রূপা বেগম বলেন, আমার মেয়ে নিয়ে কত ইচ্ছা ছিল, আল্লাহ কেন আমার মেয়েরে কেড়ে নিলো,আমার মেয়ের বাহনা ছিল একটি নতুন স্কুল ব্যাগ কিনে দিতে,বলছি বাবা টাকা পাঠালে দিমু মা, এহ্যান আমি ব্যাগ কারে কিনে দিমু ।
নিহত রীমা পিতা রিপন মিয়া বলেন,আমার মাইয়া, আমার কইলজাডা। প্রতিদিন আমার কাছে আবদার করে বলতো, ‘আব্বু, ১০টা টাকা দাও! আর এ কথা কইতো না আমার মাইয়াডা।স্কুল যাওয়ার আগে বলছি স্কুল থেকে আসলে দিমু মা টাক ,এখন কারে দিমু টাকা !
তাসফিয়া নানী তারানু বেগম,আমার তাসফু নিয়ে আমি প্রতিদিন ঘুমাইতাম ,তাসফু এ্যান নাই, আমাগো কি হবে!
বিজয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাদেকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন একটি রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণের দাবি থাকলেও তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেওয়ায় কিছুদিন পর পর এখানে প্রাণ ঝড়ছে।কিছু দিন পূবে এখানে ৩ ট্রেনের কাটা পড়ে মারা যায়, আমরা এর সঠিক প্রতিকার চায়
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুভাশীষ ঘোষ বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।’রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ বিষয়টি আমরা সরকারে তুলে ধরবো ।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন, নিহত প্রত্যেক পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার করে টাকা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া পরিবারগুলোকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে । এ ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা বলে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান নেয়া হয়েছে। পরে সদস্যদের নাম জানানো হবে।’

 

আরও পড়ুন

  • বৃহত্তর কুমিল্লা এর আরও খবর