• ঢাকা
  • রবিবার, ২৩শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২২
সর্বশেষ আপডেট : ১৬ মে, ২০২২
Designed by Nagorikit.com

বেপরোয়া মজুতদার

কুমিল্লা জার্নাল

আইন থাকলেও নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা। শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা হুঁশিয়ার করার পরও যতই দিন যাচ্ছে অতি মুনাফার লোভে অবৈধ মজুতে মরিয়া হয়ে উঠছে। স্বয়ং সরকার প্রধান শেখ হাসিনা পর্যন্ত বলছেন `অবৈধ মজুত করলে রক্ষা নেই।‘ তারপরও বাজার থেকে হাওয়া হয়ে যাচ্ছে তেলসহ অন্যান্য পণ্য। বাজারে অভিযান করলেই ধরা পড়ছে অবৈধ মজুত। এর ফলে ভোক্তাদের বেশি দামে চাল, তেলসহ বিভিন্ন পণ্য বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, প্রতারিত হচ্ছেন।

শীর্ষ ব্যবসায়ীরা বলছেন,মজুতদার এক ভাগও হবে না। তারপরও অপবাদের কালিমা পড়ছে সব ব্যবসায়ীদের উপর। তারা বলছেন, সরকারের ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণে বাজারে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। মজুত ও সরবরাহে সংকট হচ্ছে। সময় থাকতে যখন যা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তা করা হয় না। বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করে এমনই চিত্র পাওয়া গেছে।

গত দুই মাস থেকে ভোজ্যতেল নিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি হলে সরকার নড়েচড়ে বসে। বিভিন্ন পর্যায়ে শুল্ক কমিয়েছে।তারপরও এর সুফল পাচ্ছে না ভোক্তারা।মিলমালিকদের দাবির প্রেক্ষিতে তেলের লিটারে ১৬০ থেকে এক লাফে বাড়িয়ে ১৯৮ টাকা লিটার করা হয়েছে। তারপরও্র বাজার স্বাভাবিক তো দুরের কথা, এখনো অনেক বাজারে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু বাজারে অভিযান পরিচালনা করলেই ধরা পড়ছে মজুত করা তেল।

রবিবার (১৫ মে) চট্টগ্রামে ইপিজেড থানার মাইলের মাথা বাজারে মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজে এক অভিযানে তেলের দাম বাড়ানোর আগেই কেনা ছয় হাজার ১২০ লিটার সয়াবিন তেল মজুতের অভিযোগে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, রচট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মো. ফয়েজউল্লাহ।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১২মে) জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মন্ডলের নেতৃত্বে বাজার অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় রাজধানীর ওয়ারী থানার কাপ্তান বাজারে মেসার্স জনতা এন্টারপ্রাইজ থেকে অবৈধভাবে মজুদকৃত ৭ হাজার ৯৫৬ লিটার ভোজ্যতেল উদ্ধার করা হয়েছে। এভাবে সারা দেশে ভোক্তা অদিদপ্তরের বাজার অভিযানে ৩৬টি জেলায় ২ লাখ ছয় হাজার ৬৬৩ লিটার তেল জব্দ করে আগের রেটে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই দিন ভোক্তা-স্বার্থবিরোধী বিভিন্ন অপরাধ করায় ১১৪টি প্রতিষ্ঠানকে ১৮ লাখ দুই হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

কিছুতেই তেলের সংকট কাটছে। তাই সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইতে মিলমালিক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা হয়। তেলের ডিলাররা বাজার অভিযানের বিরুদ্ধে খেদোক্তি প্রকাশ করে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের নেতা গোলাম মাওলা বলেন,আইনে কি আছে মজুত করা (মাল রাখা) যাবে না? দোকানে মাল না রাখলে তাহলে কীভাবে বিক্রি হবে। ক্রেতা আসবে কীভাবে? অযথা অভিযানে ব্যবসায়ীদের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে ‘

তবে এফবিসিসিআইএর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘মজুত না করলে কীভাবে লাখ লাখ লিটার তেল উদ্ধার হচ্ছে। দাম বাড়ার সুযোগ নিতে তেল লুকানো হচ্ছে। এভাবে ৯৯ শতাংশ প্রকৃত ব্যবসায়ীকে এক শতাংশ হেও করতে পারে না। চোর-বাটপারের নেতা হতে পারি না।’

আরও পড়ুন