• ঢাকা
  • রবিবার, ১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারি, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ৩০ জানুয়ারি, ২০২৪
Designed by Nagorikit.com

মুরাদনগরে ইটভাটায় গিলে খাচ্ছে ফসলি জমির মাটি!

কুমিল্লা জার্নাল

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

কুমিল্লার মুরাদনগরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস ম্যানেজ করে তিন ফসলি জমির টপ সয়েল যাচ্ছে ইটভাটায়। শুস্ক মৌসুমে উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের শত শত বিঘা তিন ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে নেয়া হচ্ছে ইটভাটাসহ বিভিন্ন ভরাট কাজে। অভিযোগ রয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় এবং ভাটা মালিক সিন্ডিকেট মিলে মিশে উর্বর ফসলি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অধিকাংশ জমির মালিক এবং কৃষকদেরকে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে।

এদিকে উপজেলার ৪০টি ইটভাটায় জমির টপ সয়েল কেটে নিলেও রহস্য জনক কারনে এসব দেখেও না দেখার ভান করছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এতে সচেতন মহলে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

“সিন্ডিকেটে রয়েছে ছাত্রলীগ নেতাসহ প্রশাসনের লোকজন”

জানা গেছে, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ৪০টি ইটভাটায় কাঁচা মাটির চাহিদা পূরণ করতে প্রতিনিয়তই উর্বর ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে নেয়া হচ্ছে। মাটি সিন্ডিকেট, ইটভাটা মালিকগণ প্রশাসনের সাথে সম্পর্ক রেখে নিরিহ কৃষক এবং জমির মালিকদের উপর প্রভাব বিস্তার করছে। নানা কৌশলে চাপে ফেলে সিন্ডিকেটের সদস্যরা জমির টপ সয়েল কেটে নিচ্ছে।

এতে দিন দিন ফসলি জমির আয়তন কমে আসছে। স্থানীয়রা জানায়, প্রভাবশালী মাটি সিন্ডিকেটের সদস্যরা বিলের মাঝখানে গিয়ে চড়া মূল্য একটি ফসলি জমির টপ সয়েল ক্রয় করে মাটি কাটা শুরু করে দেয়। এতে আশপাশের জমির মালিকগণ অসহায় হয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পায় না। কারন প্রশাসনের সব ধরনের চাহিদা পূরণ করছে মাটি সিন্ডিকেট এবং ইটভাটা মালিকরা। এদিকে পাশের জমির টপ সয়েল কেটে নিচু করে ফেললে বাধ্য আশপাশের সকলেই মাটি বিক্রি করে জমি সমান রাখতে হয়। অন্যথায় উঁচু জমিতে পানি এবং স্যার ধরে রাখা যায় না। মাটি সিন্ডিকেটের এমন ফাঁদে পড়ে ফসলি জমির টপ সয়েল হারাচ্ছে উপজেলার হাজার হাজার কৃষক।

“প্রতিদিন ৪০টি ইটভাটায় যাচ্ছে জমির টপসয়েল”

সরেজমিনে উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের বাখরাবাদ,সুবিলারচর, রানীমুহূরী, শুশুন্ডা এবং পায়ব গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মাটি সিন্ডিকেটের হোতা উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম আহবায়ক সোহরাব হোসেন বেলাল, নহল চৌমুহনীর শাকিল, বাখরাবাদের আমির হোসেন গোমতীর চর এবং বিলের ফসলি জমির টপ সয়েল  কেটে নিয়ে ইটভাটায় বিক্রি করছে। ২০-২৫ টি ট্রাক্টর ১৫-১৬ টি ড্রাম ট্রাক দিয়ে দিন রাত ২৪ ঘন্টা মাটি কেরিং করছে।

উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের কাজিয়াতল এলাকায় আলাউদ্দিন আলা, আজিজ, সালাফি। ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের হারুন মুন্সি, লুঙ্গি জসিম। বাবুটিপাড়া ইউনিয়নে আরমান চেয়ারম্যান, রকিব, মোশাররফ। বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নে যুবলীগ নেতা বিপ্লব হোসেন এবং নাছির উদ্দিন, দিঘির পাড়ের সারোয়ার হোসেন। নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের দক্ষিণ ত্রিশ এলাকায় ছাত্রলীগ নেতা সফিক তুহিনসহ শত শত মাটি সিন্ডিকেটের সদস্যরা ভেকু মেশিন দিয়ে ট্রাক্টর এবং ড্রাম ট্রাক যোগে গোমতী চরের ও বিলের ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে নিচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের সাথে তাদের সুসম্পর্ক রয়েছে।

“অভিযোগ করে হয়রানির স্বীকার হচ্ছে জমির মালিকরা”

বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, মাটি এবং ইটভাটা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে কোন লাভ নেই। তারা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই জমির টপ সয়েল কেটে নেয়। কেউ অভিযোগ করলে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়।

তবে মাটি সিন্ডিকেটের সদস্য শাকিল,আলা, আমির হোসেন বলেন, আমরা কৃষকদেরকে ন্যায্য মূল্য দিয়েই তাদের জমির মাটি ক্রয় করি। কাউকে জোর জবরদস্তি করা হয় না। তাছাড়া সব সেক্টর ম্যানেজ করেই আমরা মাটি ক্রয় বিক্রয়ের কাজ টুকু করতে হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ বলেন, “কোন মাটি সিন্ডিকেট কিংবা ভাটা মালিকের সাথে আমার পরিচয় নেই। প্রশাসনের সঙ্গে তাদের যোগসাজসের কথাটি সঠিক নয়। মাটি কাটার বিষয়ে আমরা কোনভাবেই কোন ধরনের সম্মতি দেই না। এসব মাটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আমরা প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করছি। সামনের দিকেও তা অব্যাহত থাকবে”।

আরও পড়ুন

  • লিড এর আরও খবর