লালমাই প্রতিনিধি
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় সরকারি খাল থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৭নং বেলঘর উত্তর ইউনিয়নের গৈয়ারভাঙ্গা বাজারের পূর্ব পাশে অবস্থিত ফটিমাইল্লা খাল থেকে রাতের আঁধারে মাটি কেটে ট্রাক ও ট্রলির মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে প্রতিনিয়ত গভীর রাতে ফটিমাইল্লা খালের বিভিন্ন অংশ থেকে মাটি কেটে ট্রাক ও ট্রলির মাধ্যমে অন্যত্র বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে করে খালের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশগত ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।এলাকাবাসীর অভিযোগ, গৈয়ারভাঙ্গা বাজার সংলগ্ন কলিমিয়া গ্রামের এক মাটির ঠিকাদার রবিউল নামের ব্যক্তি এই অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিকে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করেই তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খালের মাটি কেটে বিক্রি করছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় প্রতিরাতেই একাধিক ট্রাক ও ট্রলির মাধ্যমে খালের মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হয়। ভারী যানবাহনের যাতায়াতের কারণে এলাকার গ্রামীণ সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি খালের পাড় দুর্বল হয়ে পড়ায় যেকোনো সময় ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।তারা আরও বলেন, খাল থেকে এভাবে অবাধে মাটি উত্তোলনের ফলে খালের স্বাভাবিক গভীরতা ও কাঠামো নষ্ট হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পানির প্রবাহে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে এবং আশপাশের কৃষিজমি ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি খাল, জলাশয় বা প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের উৎস থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। এতে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়, অন্যদিকে জলাবদ্ধতা ও ভূমি ধসের মতো সমস্যাও তৈরি হতে পারে।এ বিষয়ে এলাকাবাসী লালমাই উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা অবিলম্বে অবৈধভাবে খাল থেকে মাটি কাটা বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।এছাড়াও কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার নিকট বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে সরকারি সম্পদ রক্ষা পাবে এবং পরিবেশগত ক্ষতির হাত থেকে এলাকা রক্ষা পাবে।এলাকাবাসীর মতে, প্রশাসন যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ফটিমাইল্লা খালের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে। ভবিষ্যতে এর ফলে বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় এবং স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি খাল থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন বন্ধে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
[sharethis-inline-buttons]
আপনার মতামত লিখুন :