• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২
সর্বশেষ আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২
Designed by Nagorikit.com

শিক্ষার্থীদের ভাবনায় ‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ‘

কুমিল্লা জার্নাল

লেখেছেন কুমিল্লার জার্নালের কুবি নাজনীন আক্তার ।

ভালোবাসা চায় না এমন মানুষকে  হয়তো একজনও খুঁজে  পাওয়া যাবে না।ভালোবাসা এমন এক বিষয় যা শিশু থেকে শুরু করে আবালবৃদ্ধবনিতা সবার চায়। মাছকে যেমন নদীর পানি ছাড়া কল্পনা করা যায় না তেমনি ভালোবাসাহীন মানব অস্তিত্ব অকল্পনীয়। ভালোবাসাই পারে মানব হৃদয়ে মরুভূমিতে ফুল ফুটাতে।
ভালোবাসারও রয়েছে বহুমাত্রিকতা। প্রেমিকার প্রতি প্রেমিকের ভালোবাসা,সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের, ভাইয়ের প্রতি বোনের ও বন্ধুর প্রতি বন্ধুর। ভালোবাসা কোথাও যেন সীমাবদ্ধ নেই। কিন্তু ভালোবাসা কি কোনো বিশেষে দিনে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত?
বছরের একটিমাত্র দিনকে ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালন করতে এর পক্ষে বিপক্ষে রয়েছে হাজারো প্রশ্ন ও যুক্তি। আর এই ভালোবাসা দিবস সম্পর্কে কি ভাবছেন তরুণরা? কি তাদের অভিমত?
এমনটি জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার ফাহিম জানান, পৃথিবীর সবচেয়ে কোমল, স্নিগ্ধ ও মানবিক অনুভূতি হচ্ছে ভালোবাসা। সাহিত্য-শিল্প-সংস্কৃতি সবত্রই পাওয়া যায় ভালবাসার সন্ধান। ভালোবাসার দিবস শুনলেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে প্রেমিক-প্রেমিকার হাত ধরে ঘুরেফেরার দৃশ্য। কিন্তু ভালবাসা কেবল প্রেমিক-প্রেমিকাতে সীমাবদ্ধ নয়, ভালোবাসা হতে পারে পৃথিবীর সকল মানুষ,পশুপাখি, পাহাড়, সমুদ্র, নদী,প্রকৃতি ইত্যাদির প্রতি। এমনকি সঙ্গীত ও গ্রন্থের সঙ্গে ও ভালোবাসা থাকতে পারে। ভালবাসা জন্মাক স্রষ্টার সকল সৃষ্টির প্রতি।
ইন্টান্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগরিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি এর বিবিএ বিভাগের দেওয়ান নিফ্ফাত জাহান সুপ্তি বলেন, ভালোবাসা দিবস বলতে আমার কাছে বিশেষ কিছু না,প্রতিদিনই আমার কাছে ভালবাসার দিবস।ছোটবেলা থেকেই আমরা পরিবার থেকে শিখি কিভাবে খুব যত্ন ও ভালোবাসার মাধ্যমে সবকিছু আগলে রাখতে হয়। এই  দিবসে যদি কাউকে নির্দিষ্টভাবে বলতে হয় ভালোবাসি। তাহলে সেটা আমার মাকে বলতে চাই। যদিও মায়ের সামনে বলতে পারি না যে তাকে কতটা ভালোবাসি। তাই এই বিশেষে দিনে বলতে চাই, ” মা,তোমাকে ভালোবাসি”।
আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী এর পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। ফরাসি ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের মাহিমা আরা সেতু জানান,আমার কাছে ভালোবাসা দিবসটা সুন্দর। কিন্তু বর্তমানে ভালোবাসা দিবস বলতেই দেখি এককেন্দ্রিক (প্রেমিক-প্রেমিকা) সম্পর্কে আটকে থাকে। প্রতিবছর আমাদের দেশে এই বিশেষ দিনটিকে ঘিরে ‘closeup’কাছে  আসার গল্প শো-তে আয়োজিত নাটকগুলোতেও বই একটা সম্পর্ককেই ফুটিয়ে তোলা হয়। কিন্তু কেন এই দিনটি শুধুমাত্র একটা সম্পর্কের মাঝেই আবদ্ধ থাকবে?ভালোবাসা দিবস বলতে কী তাই বোঝায়? আমি এর ধারণার সম্পূর্ণ বিপক্ষে। ভালোবাসা হলো সর্বজনীন। নিরবে নিবৃত্তে যাদের ভালোবাসার কারণে আমাদের এই অব্দি পথচলা, তাদেরকে তো জানানো হয় না, হ্যাপি ভ্যালেন্টাইনস ডে মা/বাবা!
আবার আমরা চাইলেই প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য খরচ  না করে পথ শিশু, কোনো অসহায় কিংবা অনাহারী মুখে আবার খাবার তুলে দিতে পারি। একমাত্র প্রিয়জনকে ঘিরেই দিনটি উদযাপিত না হোক ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে।
অন্যদিকে ইংরেজি বিভাগের তানজিনা খন্দকার জুঁই  তার অভিব্যক্তি ব্যক্ত করে বলেন, ‘ভালোবাসা’ কেবল  একটি শব্দই নয়,এর সাথে জড়িয়ে থাকে বিশ্বাস, ভরসা ও যত্ন। মা-বাবা, ভাই-বোন,প্রেমিক-প্রেমিকা বা যাদের প্রতি বিশ্বাস, ভালোবাসা গড়ে উঠে  তাদেরই ভালোবাসার মানুষ বলা যায়। কিন্তু আজকাল ১৪ই ফেব্রুয়ারিতেই ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে খুব বেশি। এই বিশেষ দিনের অপেক্ষা না করে যদি প্রতিটি দিনই ভালোবাসার মানুষটির সাথে বিশেষভাবে পালন করা হতো তাহলে এখনকার সম্পর্কগুলো এত ঠুনকো হতো না।

আরও পড়ুন