• ঢাকা
  • সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১৪ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ১৪ মার্চ, ২০২৬
Designed by Nagorikit.com

সরকারি হাসপাতালকে নিজের মালিকানা দাবী করে জোরপূর্বক ভ্যাকসিন নিলো স্থানীয় ডায়াগনস্টিক মালিক।

কুমিল্লা জার্নাল
[sharethis-inline-buttons]

কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা জেনারেল (সদর) হাসপাতালে বিড়ালের কামড়ের ভ্যাকসিন (এন্টি-র‍্যাবিস) না পেয়ে অন্য রোগীর জন্য বরাদ্দকৃত ইনজেকশন জোরপূর্বক পুশ করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ডায়াগনস্টিক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম জুয়েল আহমেদ। ১৪ই মার্চ শনিবার দুপুরে হাসপাতালের ভ্যাকসিন রুমে এই ঘটনা ঘটে। এতে সাধারণ রোগীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দুপুরে জুয়েল আহমেদ বিড়ালের কামড়ের চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন। বর্তমানে বিড়ালের কামড়ের ভ্যাকসিনের সরবরাহ না থাকায় দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মীরা তাকে বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনার পরামর্শ দেন। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং স্টাফদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।তিনি দায়িত্বরত স্টাফদের ধমক দিয়ে বলেন, “হাসপাতালে কেন ভ্যাকসিন নেই? আমরা হাসপাতালের জায়গা দিয়েছি বিধায় এখানে হাসপাতাল হয়েছে। আমি ভ্যাকসিন নিয়ে আসব না, আপনারাই নিয়ে আসেন। আমরা জায়গা না দিলে আপনারা এখানে চাকরি করতে পারতেন না।” এক পর্যায়ে তিনি জোরপূর্বক ইনজেকশন রুমে ঢুকে পড়েন এবং অন্য এক রোগীর জন্য প্রস্তুত রাখা ভ্যাকসিনটি তাকে পুশ করতে নার্সদের বাধ্য করেন।ঘটনার সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আরিফুল ইসলাম নামের এক রোগী বলেন, “আমি এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। ওই ভদ্রলোক হঠাৎ এসে জোর করে চেম্বারে ঢুকে অন্য রোগীর ভ্যাকসিন নিয়ে চলে গেলেন। তিনি নিজেকে হাসপাতালের মালিক দাবি করছিলেন। যিনি ১৩০ টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কিনতে পারেন না, তিনি আবার সরকারি হাসপাতালের মালিক দাবি করেন কীভাবে?”লাইন থেকে ছিটকে পড়া গৃহিণী মরিয়ম বেগম বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, সরকারি হাসপাতালে আসি একটু ভরসার জন্য। কিন্তু এখানে যেভাবে গালিগালাজ আর ধমক দেওয়া হলো, তাতে আমরা ভয়ে কুঁকড়ে গিয়েছিলাম। একজনের ইনজেকশন কেড়ে নিয়ে আরেকজন পুশ করা তো রীতিমতো জুলুম। আমরা এর বিচার চাই।”বৃদ্ধ আবদুল লতিফ আক্ষেপ করে বলেন, “বয়সের ভারে ঠিকমতো দাঁড়াতে পারি না, তাও লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। কিন্তু ওই লোক এসে সব তছনছ করে দিলেন। তার চিৎকারে পুরো করিডোর থমথমে হয়ে গিয়েছিল। প্রভাবশালী হলেই কি অন্যের হক নষ্ট করা যায়? সরকারি সেবা কি শুধু এদের মতো মানুষের জন্য?”হাসপাতালের দায়িত্বরত স্টাফরা জানান, তারা ওই সময় অত্যন্ত অসহায় বোধ করছিলেন। তারা জুয়েল আহমেদকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে, ভ্যাকসিনের জন্য সিভিল সার্জন কার্যালয়ে রিকুইজিশন পাঠানো হয়েছে কিন্তু বর্তমানে স্টকে নেই। তবুও তিনি কোনো কথা না শুনে প্রভাব খাটিয়ে অন্য রোগীর ভ্যাকসিনটি গ্রহণ করেন।এই ঘটনায় ভুক্তভোগী রোগীরা স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

[sharethis-inline-buttons]

আরও পড়ুন

  • লিড এর আরও খবর