১৫ বছর পর ‘দৈনিক আমার দেশ’ পত্রিকার আইডি কার্ড ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়েছেন চৌদ্দগ্রামের প্রবীণ সাংবাদিক মোঃ এমদাদ উল্যাহ। মঙ্গলবার (০৪ নভেম্বর ২০২৫) কুরিয়ারের মাধ্যমে আইডি কার্ডটি গ্রহণ করেন তিনি।
সাংবাদিক এমদাদ উল্যাহ জানান, তিনি ২০১০ সালে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় যোগদান করেন। কিন্তু তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্কাইপি কেলেঙ্কারি প্রকাশের পর সরকার পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ করে দেয় এবং ছাপাখানার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। সেই সময় সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহসহ একাধিক মামলা দেওয়া হয়। পরে দেশত্যাগে বাধ্য হন তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর মাহমুদুর রহমান দেশে ফিরে পুনরায় পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেন। আদালতের নির্দেশে পুনরায় প্রকাশের অনুমতি পেয়ে ‘দৈনিক আমার দেশ’ আবারও নব উদ্যমে যাত্রা শুরু করে।
বর্তমানে পত্রিকাটি পাঠকের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে পুনরায় পাঠকের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে।
এমদাদ উল্যাহ বলেন, “দীর্ঘ বছর চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার পর আজ এই আইডি কার্ড হাতে পেয়ে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। কর্তৃপক্ষ অনার্স-মাস্টার্স সার্টিফিকেট ও পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ড যাচাই-বাছাই করে আইডি প্রদান করেছে— এজন্য কৃতজ্ঞতা জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সময়ে অনেকেই সাংবাদিকতার নামে অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ ৫০০-১০০০ টাকায় ভূয়া আইডি কার্ড বানিয়ে গলায় ঝুলায়। এমনকি প্রশাসনের দপ্তরে গিয়ে মাসোহারা আদায় করে থাকে। আমি শুরু থেকেই এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি এবং মাসোহারা নেওয়া থেকে বিরত থেকেছি।”
সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান রাখায় সামাজিক ও জাতীয় পর্যায়ে একাধিক সম্মাননা, অ্যাওয়ার্ড এবং নগদ পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি। চলতি বছরের ১ মে রাষ্ট্রপ্রধান প্রফেসর ড. ইউনূসের হাত থেকে “শ্রম বিষয়ক মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড” গ্রহণ করেন তিনি, যা চৌদ্দগ্রামের সাংবাদিক সমাজের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করেছে।
শেষে এমদাদ উল্যাহ বলেন, “এই আইডি কার্ডটি আমার কাছে সম্মানের প্রতীক। সত্য প্রকাশ ও পেশাদার সাংবাদিকতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবার দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করছি।”
[sharethis-inline-buttons]
আপনার মতামত লিখুন :