• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ২ এপ্রিল, ২০২৬
Designed by Nagorikit.com

কুমিল্লায় ‘উদ্ভাস একাডেমিক কেয়ার’- এর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগ

কুমিল্লা জার্নাল
[sharethis-inline-buttons]

নিজস্ব প্রতিবেদন।

কুমিল্লা নগরীর পুলিশ লাইন এলাকায় ‘উদ্ভাস একাডেমিক কেয়ার’ নামে পরিচালিত একটি কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার্থী হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আকর্ষণীয় ফলাফলের প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করালেও পরে প্রতিশ্রুত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি অভিজ্ঞ শিক্ষক, নিয়মিত মানসম্মত ক্লাস এবং ভালো ফলাফলের নিশ্চয়তা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করায়। তবে ভর্তি হওয়ার পর বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, দক্ষ শিক্ষকের অভাব এবং নিম্নমানের পাঠদান শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।সরেজমিনে দেখা যায়, কোচিং সেন্টারটি একটি পুরাতন ও জরাজীর্ণ তিনতলা ভবনের তৃতীয় তলায় পরিচালিত হচ্ছে। ছোট ছোট কক্ষে গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীদের বসিয়ে ক্লাস নেওয়া হয়। পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাব এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পাঠদান চলায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, অভিজ্ঞ শিক্ষকের পরিবর্তে বিভিন্ন কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দিয়ে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। ফলে পাঠদানের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, কিছু শিক্ষক ক্লাসের সময় অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য করেন, যা শিক্ষার্থীদের জন্য বিব্রতকর।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী অভিযোগ করে জানায়, ক্লাসে কয়েকজন শিক্ষক অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত মন্তব্য করেন, যা আমাদের জন্য অস্বস্তিকর। পড়াশোনার পরিবেশ না থাকায় আমরা মানসিকভাবে চাপে থাকি।কুমিল্লা মডার্ন স্কুলের শিক্ষার্থী মুস্তাকিম খান অভিযোগ করে জানান, এসএসসি মডেল টেস্ট পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তাকে উদ্ভাস কোচিং সেন্টারে পাঠানো হয়। পুলিশ লাইন এলাকায় শাখা খুঁজতে গিয়ে তিনি ‘একাডেমিক কেয়ার’ যুক্ত নাম ব্যবহারকারী এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রতারিত হন।তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নিজেদেরকে আসল উদ্ভাস দাবি করে আমার কাছ থেকে ভর্তি বাবদ সাড়ে তিন হাজার টাকা নেয়। পরে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে অভিভাবকদের জানাই। মুস্তাকিম আরও জানান, তার অভিভাবক টাকা ফেরত চাইলে কর্তৃপক্ষ লিখিত আবেদন নিয়ে পরদিন টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে নানা অজুহাতে টাকা ফেরত না দিয়ে ঘোরানো হচ্ছে।এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভর্তি করানোর সময় অনেক বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন ঠিকমতো ক্লাস হয় না, ভালো শিক্ষকও নেই। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা প্রতারিত হয়েছি। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, একটি প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। প্রতিবাদ করলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন অভিভাবক।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোচিং এর পরিচালনার দায়িত্বে থাকা জেলা যুবদল নেতা আহসান উল্লাহকে একাধিকবার কল দিয়ে ও ক্ষুদে বার্তা দিয়েও পাওয়া যায়নি। তবে ওই যুবদল নেতার স্ত্রী এ কোচিং এর পরিচালক রাবেয়া আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

[sharethis-inline-buttons]

আরও পড়ুন

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুপাশের গোমারবাড়ি ও শ্রীপুর গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফ রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।পুলিশ জানায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে মহাসড়কের দুপাশে দুই গ্রামের লোকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। মহাসড়কের মাঝখানে প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে এ সংঘর্ষ চলে। এতে ঢাকাগামী ও চট্টগ্রামগামী উভয় লেনে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, ভোগান্ত্রিতে পড়েন যাত্রীরা।চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি মো. আরিফ রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং যানজট নিরসন করেন। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

  • লিড এর আরও খবর