নিজস্ব প্রতিবেদন
কুমিল্লার বিনোদন কেন্দ্র ধর্মসাগর পাড়ে বেড়াতে গিয়ে বখাটেদের হামলার শিকার হয়েছেন এক পুলিশ দম্পতি। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সাথে জড়িত দুই মূল আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।গতকাল বৃহস্পতিবার ( ২ এপ্রিল ২০২৬) বিকাল আনুমানিক ৫:০০ ঘটিকায় কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় কর্মরত নারী কনস্টেবল জাকিয়া সুলতানা এবং তার স্বামী চাঁদপুর জেলা পুলিশে কর্মরত কনস্টেবল কাজী আব্দুল্লাহ মোঃ জোবায়ের ব্যক্তিগত সময়ে ধর্মসাগর পাড়ে ঘুরতে যান। এ সময় অজ্ঞাতনামা ৩ জন যুবক কনস্টেবল জাকিয়া সুলতানাকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে। জাকিয়ার স্বামী কনস্টেবল জোবায়ের এর প্রতিবাদ করলে আসামীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর চড়াও হয় এবং একপর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে তাকে আঘাত করে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।দিনদপুরে সাধারণ মানুষের সামনে এই ধৃষ্টতাপূর্ণ হামলার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো: আনিসুজ্জামান, পিপিএম মহোদয়ের নজরে আসিবামাত্র তিনি অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় আনার কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন।পুলিশ সুপারের চৌকস দিক-নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আসামীদের শনাক্ত করা হয়। ঘটনার পর থেকে টানা ১২ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালিয়ে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় দুই আসামীকে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলো মোঃ রিফাত (১৯), পিতা- জাহাঙ্গীর আলম, সাং- কালিয়াজুড়ী (মুন্সেফ কোয়ার্টার), সিয়াম (২০), সাং- ভুবনঘর, থানা- কোতয়ালী মডেল, কুমিল্লা।পুলিশ সুপার মহোদয় জানিয়েছেন, “কুমিল্লার কোনো স্থানেই কিশোর গ্যাং বা বখাটেদের অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে অপরাধী যেই হোক, তাকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।”গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত বাকি আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
[sharethis-inline-buttons]
আপনার মতামত লিখুন :