কুমিল্লার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিন (২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ), যিনি সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস কোর্সের ছাত্রী ছিলেন।
সহপাঠী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রথম বর্ষে থাকাকালীন এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মনিরা জহিরের সঙ্গে ব্যক্তিগত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে অর্পিতা নওশিনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরপর থেকে তাকে লক্ষ্য করে মানসিক চাপ ও একাডেমিক প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, একই ব্যাচের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা নিয়মিতভাবে পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হলেও অর্পিতা নওশিন বারবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েও এনাটমি বিষয়ে পাস করতে পারেননি। ফলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রথম বর্ষেই আটকে ছিলেন এবং জুনিয়র শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্লাস ও প্রফেশনাল পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য হন।
সহপাঠীরা জানান, এই পরিস্থিতি তাকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি ঘুমের ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যা করেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের আচরণ, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহল মনে করছেন, এমন ঘটনা রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছ মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা জোরদার করা জরুরি
আপনার মতামত লিখুন :