মোহাম্মদ সাইদুলহক
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : স্কুলে যাওয়া হলো না হাসিবুল ইসলাম জিহানের (১১)। নিয়ন্ত্রণহীন লরির চাপায় সড়কেই নিভে গেল তার জীবন প্রদীপ। এই সময়ে গুরুতর আহত হয় তারই সহপাঠি মেহজাবিন আক্তার তানিসা (১১)। তারা দু’জন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ঘোলপাশা ইউনিয়নের আমানগন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শির্ক্ষাথী ও সর্ম্পকে চাচাতো ভাই-বোন। শনিবার সকালে স্কুলে যাওয়ার সময়ে নিয়ন্ত্রণহীন লরির চাপায় ঘটনাস্থলেই হাসিবুল ইসলাম জিহান মারা যায়। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন মিয়া বাজার হাইওয়ে থানার ইনচার্জ (ওসি) শাহাব উদ্দিন। নিহত জিহান একই এলাকার প্রবাসী আবুল হোসেন ও অঞ্জু আক্তার দম্পতির ছেলে।
স্থানীয় প্রতক্ষ্যদর্শীদের বরাত দিয়ে ওসি শাহাব উদ্দিন জানান, শনিবার সকালে নিহত জিহান ও তারই চাচাতো বোন তানিসা পায়ে হেটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওয়াকওয়ে দিয়ে স্কুলে যাচ্ছিলেন। আমানগন্ডা তাকিয়া আমগাছ নামক স্থানে পৌঁছালে পিছন থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখি একটি লরি (চট্ট মেট্রো-ঢ-১১-৪৩৯৮) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের দু’জনকে চাপা দিয়ে উল্টে যায়। এই সময়ে লরীর নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই জিহানের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হয় জিহানের চাচাতো বোন মেহজাবিন আক্তার তানিসা। খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জিহানের লাশ উদ্ধার করে এবং আহত তানিসাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থা অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
নিহত জিহানের জেঠাতো ভাই মোঃ খালেদ জানান, জিহান ও তানিসা অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলো। তারা সব সময়ে একসাথে স্কুলে আসা-যাওয়া করতো। শনিবার সকালে নাস্তা শেষে দু’জন প্রতিদিনের মত একসাথে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়। স্কুলের কাছাকাছি পৌঁছালে পিছন থেকে একটি লরি তাদেরকে চাপা দেয়। এতে করে ঘটনাস্থলে জিহানের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হয় তানিসা।
মিয়া বাজার হাইওয়ে থানার ইনচার্জ (ওসি) শাহাব উদ্দিন আরো জানান, দূর্ঘটনা কবলিত লরিটি জব্দ করা হয়েছে। গাড়ির চালক ও সহকারি পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে জিহানের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :