ব্রাহ্মণপাড়া প্রতিনিধ।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ ঘিরে আবারও শুরু হয়েছে অবৈধ মাটি কাটার মহোৎসব। উপজেলার মনোহরপুর মালাপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি চক্র প্রকাশ্যে নদীর বেড়িবাঁধের ভেতর থেকে মাটি কেটে ট্রাকভর্তি করে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এই অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে ছাত্রলীগ নেতা সোহানের নেতৃত্বে, আর প্রশাসনের নীরবতায় দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে মাটি লুটেরারা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন দুপুর থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত এমনকি ভোর পর্যন্ত ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে মাটি কাটা হচ্ছে। একের পর এক ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে সেই মাটি বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফলে গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ ও আশপাশের এলাকা হুমকির মুখে পড়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এভাবে অবৈধভাবে মাটি কাটতে থাকলে ভবিষ্যতে বন্যা বা ভাঙনের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও প্রভাবশালী মহলটি কোনো ধরনের ভয়-ভীতি ছাড়াই প্রকাশ্যে এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয়কে ব্যবহার করেই মাটি লুটের এই কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখা হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতেও ভয় পাচ্ছেন।এদিকে কৃষিমন্ত্রী হাজ্বী আমিন-উর রশিদ ইয়াছিন একাধিকবার স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন, গোমতী নদীর এক ইঞ্চি মাটিও কেউ কাটতে পারবে না এবং নদী ও বেড়িবাঁধ রক্ষায় সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশনার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। মন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েই চলছে অবৈধ মাটি কাটার এই কার্যক্রম।এ বিষয়ে সচেতন নাগরিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিডিও ধারণ করে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বলেও জানা গেছে। তারা দাবি করেছেন, প্রকাশ্যে মাটি কাটা হলেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানানো হলে তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানোর পরামর্শ দেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন রিসিভ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।এ অবস্থায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, প্রশাসনের নীরবতা এবং দায়িত্বহীনতার কারণেই প্রভাবশালী মহলটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ ও আশপাশের এলাকা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।এলাকাবাসী অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ রক্ষায় অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এখন প্রশ্ন উঠেছে—ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে চলা এই মাটি লুটের বিরুদ্ধে প্রশাসন আদৌ কোনো পদক্ষেপ নেবে, নাকি নীরব দর্শকের ভূমিকাতেই থাকবে।
[sharethis-inline-buttons]
আপনার মতামত লিখুন :