স্টাফ রিপোর্টার-
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার পৌনে তিন লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার ভরসা মনোহরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অবকাঠামোগত উন্নয়ন দেখা গেলেও হাসপাতালটির ভেতরে নানা অনিয়ম,অবহেলা,দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় চলছে বলে অভিযোগউঠেছে।
বেশির ভাগ ডাক্তার, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নার্স সম্পূর্ণ
খামখেয়ালিপনা ও দাপট দেখিয়ে যে যার মতো করে ডিউটি করছেন।বিষয়গুলো নিয়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বেশ কয়েকবার সংবাদ প্রকাশিত হলেও কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন না করায় তাদের (স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের) অনিয়ম ও অপরাধের মাত্রা বেড়েই চলছে।
সম্প্রতী গত ৩১ মার্চ দিবাগত রাত ১২টার দিকে গণপিটুনির শিকার হলে নাঈম (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে পুলিশ মনোহরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ ফয়জুর রহমান রোগীকে কোন প্রকার প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়েই কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। এসময় রোগীর সাথে আসা লোকজন চিকিৎসকের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়লে পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে এবং কর্তব্যরত চিকিৎসককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। এতেও ডাক্তার ফয়জুর রহমান রোগীকে কোন চিকিৎসা না দেওয়ায় মনোহরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)শাহিনুর ইসলাম হাসপাতালে আসেন। ওসি’কে দেখেই ডাক্তাররা পুলিশকে নিয়ে(৫আগস্ট এজন্যই আগুনে পুড়াইছে,মারছেসহ) বেশ কিছু বাজে মন্তব্য করেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। রোগীকে চিকিৎসা না দেওয়া ও পুলিশকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করার বিষয়টি ওসি শাহিনুর ইসলাম সাথে সাথেই মনোহরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার প্রিয়াঙ্কা চক্রবর্তীকে টেলিফোনে অবগত করেন।
এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
মনোহরগঞ্জ থানা পুলিশের দাবি
নিজেদের অপরাধ, অনিয়ম ও ব্যর্থতার দায় সারাতে মনোহরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা নিজেরাই (স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ) তদন্ত টিম ঘটন করে। এতে মনোহরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)শাহিনুর ইসলাম ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা পুলিশ সদস্যদের কে অপরাধী হিসেবে প্রতিবেদন জমা দেয়। যা সম্পূর্ণ হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা।মনোহরগঞ্জে উপজেলার বেশ কয়েকজন বিশিষ্টজন বলেন নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে স্থানীয় ও জাতীয় বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হলেও নেওয়া হচ্ছেনা কোন পদক্ষেপ,যা অত্যন্ত দুঃখজনক বলেও তারা দাবি করেন ।
এছাড়াও মনোহরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্নীতিবাজ চিকিৎসক ডা. মো. শাহরিয়ার ইনাম খানকে প্রধান করে নিজেরাই (স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ) তদন্ত টিম ঘটন করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এছাড়াও
কর্মকর্তারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা বিভাগ, খাদ্য সরবরাহ,ঔষধ বিতরণ ও চিকিৎসকদের নানা অনিয়ম এখন প্রকাশ্যে।
এবিষয়ে মনোহরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুর ইসলাম বলেন -গত ৩১ তারিখের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। পুলিশ একজন আসামিকে নিয়েছে প্রাথমিক চিকিৎসা করানোর জন্য। এতে রোগীটিকে চিকিৎসা না দিয়ে তাদের আচরণে আমরা হতাশ হয়েছি।এছাড়াও সরকারী চিকিৎসকদের মুখে পুলিশ নিয়ে এত বাজে মন্তব্য এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি বিষয়টি সাথে মনোহরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে টেলিফোনে অবগত করেছি। তিনি বিষয়টি সমাধান না করে, উল্টো মনোহরগঞ্জ পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে বারবার টেলিফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
[sharethis-inline-buttons]
আপনার মতামত লিখুন :