• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৩ এপ্রিল, ২০২৬
Designed by Nagorikit.com

অটিজম বুঝি, মানুষকে গ্রহণ করি

কুমিল্লা জার্নাল
[sharethis-inline-buttons]



প্রীতম কান্তি গোপ, কুবি প্রতিনিধি।

জানালা দিয়ে উদাস চোখে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে ছোট্ট রুবেল। বয়স হতে চলল পাঁচ। সমবয়সীরা যখন স্পষ্ট করে ‘মা’ বলে ডাকতে পারে তখনও সেই শব্দটা উচ্চারণই করতে পারে না রুবেল। অন্য শিশুরা যখন বাইরের জগতে ছুটে বেড়ায়, রুবেল তখন বসে থাকে ঘরের মেজেতে, দুলতে থাকে নিজের মতো করে। রুবেলের মতো এমন হাজারো ‘বিশেষ’ শিশুর কথা ভাবার এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) পালিত হচ্ছে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস।

​এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে “অটিজম ও মানবতা প্রতিটি জীবনেরই মূল্য আছে।” অটিজম বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, স্নায়ুবৈচিত্র্যের জয়গান এবং অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ার লক্ষ্যেই বিশ্বজুড়ে দিনটি পালন করা হচ্ছে।

​অটিজম কী এবং কেন হয়?
​বিশেষজ্ঞদের মতে, অটিজম কোনো ছোঁয়াচে রোগ বা অভিশাপ নয় বরং এটি মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষের বিকাশজনিত একটি সীমাবদ্ধতা। সাধারণত জন্মের পর ১৮ মাস থেকে ৩ বছর বয়সের মধ্যে এর লক্ষণগুলো স্পষ্ট হয়। যেখানে একটি স্বাভাবিক শিশু চার মাস বয়সেই মানুষের মুখ চেনে, সেখানে অটিস্টিক শিশুর মাইলস্টোনগুলো আসে বেশ দেরিতে। তারা চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারে না, একই কাজ বারবার করে এবং অনেক সময় প্রচণ্ড অস্থিরতা প্রদর্শন করে।

​দীর্ঘদিন ধরে সমাজে অটিজমের জন্য মায়েদের দায়ী করার একটি ভুল প্রবণতা ছিল। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, অটিজমের সুনির্দিষ্ট কোনো একক কারণ নেই। এটি জিনগত বা পরিবেশগত কারণে হতে পারে। বাবা-মায়ের অধিক বয়স, গর্ভকালীন জটিলতা, ভেজাল খাদ্য বা বায়ুদূষণের মতো বিষয়গুলো এর পেছনে দায়ী থাকতে পারে।

​বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট:
​সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি ৫০০ জন শিশুর মধ্যে ১ জন অটিজমে আক্রান্ত। উদ্বেগজনক তথ্য হলো, প্রতি বছর এই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ শিশু। গবেষণায় দেখা গেছে, মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার হার প্রায় আড়াই গুণ বেশি এবং গ্রামের তুলনায় শহরের শিশুদের মধ্যে এই হার অধিক লক্ষ্য করা যায়।

​অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজই বাঁচার পথ:
​অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের বিকাশে পরিচর্যাই হলো একমাত্র বিকল্প। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করা এবং উপযুক্ত থেরাপি নিশ্চিত করা গেলে এই শিশুরা অভাবনীয় উন্নতি করতে পারে। তারা সমাজের বোঝা নয়, বরং সঠিক সুযোগ পেলে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম।

​জাতিসংঘ ২০০৭ সালে ২ এপ্রিলকে ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই থেকে বাংলাদেশেও দিবসটি গুরুত্বের সাথে পালিত হচ্ছে। আজ দিবসটি উপলক্ষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংগঠন নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মী হওয়া এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের নাগরিক দায়িত্ব। “প্রতিটি জীবনেরই মূল্য আছে” এই বার্তাকে হৃদয়ে ধারণ করে আমাদের এমন এক সমাজ গড়তে হবে যেখানে রুবেলদদের মতো শিশুরা অবহেলিত হবে না, বরং স্নেহে ও মমতায় বেড়ে উঠবে বৈচিত্র্যময় এক সুন্দর পৃথিবীতে।

[sharethis-inline-buttons]

আরও পড়ুন

  • লিড এর আরও খবর