বুড়িচং প্রতিনিধি।
:কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় জমি দখলের চেষ্টা, মারধর, মোবাইল ফোন ভাঙচুর এবং ২২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মজিদ (৫০) বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৪নং ষোলনল ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা মজিদ, পিতা তৌহিদ মিয়া, দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির চাপ ও হুমকির মুখে ছিলেন। অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে গাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম শাহিন (৪০), পিতা আব্দুল মালেক এবং মো. জহির (৩২), পিতা মো. খোকন মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।ভুক্তভোগী মজিদ তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, গাজীপুর গ্রামের ফায়ার সার্ভিসের সামনে তার নিজ মালিকানাধীন প্রায় ১৩ শতক জমি রয়েছে। জমিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হওয়ায় অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি তাদের কাছে বিক্রি করার জন্য তাকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। তবে তিনি জমিটি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় অভিযুক্তরা তাকে নানা উপায়ে হয়রানি করতে শুরু করে।অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা এলাকায় অপপ্রচার চালাতে থাকে যে, মজিদ তাদের কাছ থেকে জমি বিক্রির বায়না হিসেবে টাকা নিয়েছেন। অথচ বাস্তবে তিনি তাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের বায়না বা অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করেননি বলে দাবি করেন। তিনি জানান, এই ধরনের মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।ভুক্তভোগীর দাবি, জমি বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানানোয় অভিযুক্তরা তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। তারা একাধিকবার হুমকি দেয় যে, জমি তাদের চাহিদামতো মূল্যে বিক্রি না করলে তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের আওয়ামী লীগের লোক হিসেবে সাজিয়ে রাজনৈতিক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে।এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গত ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখ বিকাল আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে অভিযুক্তরা বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে গাজীপুর গ্রামের ফায়ার সার্ভিসের সামনে মজিদের মালিকানাধীন জমিতে প্রবেশ করে। অভিযোগ রয়েছে, তারা একটি ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিন নিয়ে এসে জমিতে মাটি ভরাট শুরু করে এবং জোরপূর্বক জমিটি দখলের চেষ্টা চালায়।মজিদ বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের বাধা প্রদান করেন। এ সময় অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার কাছে ২২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তারা জানায়, যদি তিনি তাদেরকে এই টাকা প্রদান করেন তাহলে তিনি তার জমিতে যাতায়াত ও ব্যবহার করতে পারবেন, অন্যথায় তাকে জমিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।ভুক্তভোগী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। অভিযোগে বলা হয়, প্রধান অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম শাহিন এক পর্যায়ে তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে।এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, অপর অভিযুক্ত মো. জহির তার হাতে থাকা একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে মাটিতে আছড়ে ভেঙে ফেলে। এতে প্রায় ১৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।মজিদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে আহত অবস্থায় তিনি স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গাজীপুর গ্রামের ছাত্তার মেম্বার (৬০), পিতা মৃত ইসমাইল এবং আল আমিন (৩০), পিতা মো. মজিবসহ আরও কয়েকজন সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন।ভুক্তভোগী মজিদ জানান, ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু অভিযুক্তরা কোনো সমাধানে না আসায় শেষ পর্যন্ত তিনি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হন এবং বুড়িচং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।এদিকে এলাকাবাসীর একটি অংশ জানান, গাজীপুর এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে মাঝে মাঝেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তারা মনে করেন, প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।এ বিষয়ে বুড়িচং থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তারা জানান।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে প্রায়ই গ্রামাঞ্চলে এমন ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে।
[sharethis-inline-buttons]
আপনার মতামত লিখুন :