বাংলাদেশে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ ১৬ থেকে ২০ বছর ধরে পড়াশোনা শেষ করেও যখন চাকরির বাজারে প্রবেশ করে, তখন দেখা যায়—এই দীর্ঘ সময়ের শিক্ষাজীবনের বেশিরভাগ অংশই চাকরির সঙ্গে সম্পর্কহীন। চাকরিতে প্রবেশের জন্য তাদের আবার আলাদাভাবে নতুন করে পড়তে হয়। এমনকি সেই চাকরির পড়াশোনাও বাস্তব কর্মজীবনে খুব একটা কাজে আসে না। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এই পড়াশোনা দিয়ে কি আদৌ বাস্তব দক্ষতা অর্জন বা বিশ্বজয় সম্ভব?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার মূল কারণ লুকিয়ে আছে শিক্ষা, নিয়োগ ও কর্মজীবনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে মুখস্থনির্ভর জ্ঞানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, সেখানে চাকরির বাজার চায় বাস্তব দক্ষতা, প্রযুক্তি জ্ঞান, ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম ও চাকরির বাজারের মধ্যে বিস্তর ফারাক থাকায় শিক্ষার্থীরা ডিগ্রি পেলেও কর্মদক্ষ হতে পারছে না। অনেকেই বলেন—”যে শিক্ষায় ১৬-২০ বছর ব্যয় করেও বাস্তব জ্ঞান অর্জন সম্ভব হয় না, তা কেবল সার্টিফিকেট অর্জনের শিক্ষা, জীবন গঠনের নয়।”
চাকরিদাতারাও এখন সরাসরি বলেন, শুধু ডিগ্রির ভিত্তিতে নয়, দক্ষতা যাচাইয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রয়োজন। অনেক সময় দেখা যায়, ডিগ্রিধারী প্রার্থী বাস্তব কাজে অদক্ষ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে প্রশিক্ষণ দিতে বাধ্য হয়।
অন্যদিকে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা জরুরি। প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা হতে হবে দক্ষতা-কেন্দ্রিক। শিক্ষার্থীদের বাস্তব প্রকল্পে যুক্ত করা, ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করা, এবং চাকরির জন্য আলাদা করে না পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়েই সেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা দরকার।
তারা বলেন, “যে শিক্ষা জীবনের কাজে আসে না, তা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র—তিন দিকেই ক্ষতি ডেকে আনে। বছরের পর বছর ধরে সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয় করেও যদি একজন শিক্ষার্থী হতাশ বেকারে পরিণত হয়, তাহলে প্রশ্ন ওঠে—এই সার্টিফিকেটের মূল্য কোথায়?”
বিশেষজ্ঞদের মতে,
শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত এমন জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন, যা দিয়ে ব্যক্তি সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্বকে ইতিবাচকভাবে বদলে দিতে পারে। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীর সময় ব্যয় হচ্ছে, ফল আসছে না। এখনই কাঠামোগত পরিবর্তনের সময়।”
মো: রহিম উদ্দিন মজুমদার, সহকারী শিক্ষক, চৌদ্দগ্রাম মাধ্যমিক পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
[sharethis-inline-buttons]
আপনার মতামত লিখুন :