• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৪ এপ্রিল, ২০২৬
Designed by Nagorikit.com

চৌদ্দগ্রামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে মানহানির প্রতিবাদে ভুক্তভোগিদের সংবাদ সম্মেলন।

কুমিল্লা জার্নাল
[sharethis-inline-buttons]

মোহাম্মদ সাইদুলহক চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে রাতের আঁধারে নিজেদের জায়গার সীমানা প্রাচীর ভাংচুর করে এবং কয়েকটি ছোট বনজ গাছ কেটে সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে দেশের প্রচলিত বিভিন্ন গণ্যমাধ্যমে সংবাদ প্রচার করে প্রতিপক্ষের সম্মানহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা জানাজানি হলে ভুক্তভোগির পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শনিবার (০৪ এপ্রিল) সকালে উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের অলিপুর মধ্যমপাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজনের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগিরা।সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগির পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠের মাধ্যমে অভিযোগ করে আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা (আলমগীর হোসেন ও আলী হোসেন) দুই ভাই দেশের আইনের প্রতি সবসময় অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। আমাদের বিরুদ্ধে আইন অমান্য বা ভঙ্গের কোনো নজির নেই। আমাদের পাশের বাড়ীর আব্দুল হাকিমের ছেলে মো. রুহুল আমিনের সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ জমি সংক্রান্ত ও পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিলো। এ ঘটনার জেরে গত কিছুদিন পূর্বে রুহুল আমিন আমাদেরকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যে রাতের আঁধারে তাদের একটি সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলে এবং বাড়ীর পাশ্ববর্তী তাদের নিজ মালিকীয় জায়গার কিছু বনজ নিজেরাই কেটে ফেলে। এরপর এ ঘটনায় তারা আমাদের বিরুদ্ধে থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ, ফৌজদারি মামলা ও আদালতে আরেকটি পৃথক মামলা দায়ের করে। অভিযোগ ও মামলা দায়েরের পর থানা পুলিশ সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির তদন্তও করে। এতে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতার সুস্পষ্ট প্রমান পায়নি তদন্তকারী সংস্থার লোকজন। এলাকাবাসী এ ঘটনায় বরং রুহুল আমিন গংকেই পরোক্ষভাবে দোষারোপ করেছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রুহুল আমিন গং সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে আমাদের বিরুদ্ধে সাজানো ওই ঘটনার আলোকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার করে। যা পরবর্তীতে আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আমরা আজকের এ সংবাদ সম্মেলন থেকে উক্ত সাজানো ঘটনা ও হয়রানিমূলক অভিযোগ, মামলা ও মানহানিকর সংবাদের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আপনাদের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারাী বাহিনীর কাছে আকুল আবেদন করছি, তারা যাতে ঘটনার আরও অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসে। আর যাতে এমন মিথ্যা ঘটনা ঘটিয়ে কেউ কাউকে হয়রানি বা মিথ্যা সংবাদ প্রচার করার মাধ্যমে কারো পরিবারের সম্মানহানি করতে না পারে।এ সময় তিনি আরও বলেন, আমরা প্রত্যাশা করবো আপনারাও রুহুল আমিন গং কর্তৃক উক্ত পরিকল্পিত ঘটনাটির সঠিক তদন্ত করে দেশ ও জাতির সামনে প্রকৃত ঘটনাটি তুলে ধরবেন। যাতে মুখোশধারি এসব নোংরা মানসিকতার লোকদের মুখোশ সমাজ তথা দেশ-জাতির কাছে উম্মোচিত হয়। সর্বশেষ আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।সংবাদ সম্মেলনে গ্রামবাসীর পক্ষে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আব্দুস সাত্তার, আব্দুল ওয়াহাব সর্দার ও মো. মোক্তল হোসেন। বক্তব্যে তারা বলেন, রাতের আঁধারে কে বা কারা রুহুল আমিনদের জমির পাশের সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলেছে। সেখানে লাগানো কয়েকটি গাছও কেটে ফেলেছে বলে লোক মারফত শুনেছি। তাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো সামাজিক সমাধান চাওয়া হয়নি। বরং তারা বিষয়টি থানা এবং আদালতে পৃথক মামলা করেছে। উভয়পক্ষের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ থাকায় ঘটনাটিকে আলোচনায় রেখে আইনী সুবিধা নিতে চাচ্ছে বলে আমাদের ধারনা। তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টির সমাধানে পুলিশের কার্যকর ভূমিকা কামনা করছি।সংবাদ সম্মেলনে মো. শাহআলম নামে জনৈক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, আমি ছোটখাটো ঠিকাদারি কাজ করি। আলমগীর এবং রুহুল আমিন গংদের মধ্যে বিবাদমান জমিটি আমার বাড়ীর পাশেই। বিরোধ চলাকালীন গত রমজানে আমার পাশের বাড়ীর প্রবাসী ইব্রাহিম আমাকে প্রস্তাব দেয় রুহুল আমিনদের জমির পাশের দেওয়ালটি রাতের আঁধারে ভেঙ্গে দিতে। এ সময় সে আমাকে মোটা অংকের টাকার প্রস্তাব দেয়। বিষয়টি বেশ সন্দেহজনক হওয়ায় আমি উক্ত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করি।সংবাদ সম্মেলনে অলিপুর গ্রামবাসীর পক্ষে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট সমাজসেবক ইউনুছ মিয়া, মনির হোসেন, আবদুর রহমান, আলী হোসেন, ইউছুফ মিয়া, আবুল হাশেম, জহিরুল হক, মো. ফাহাদ, আব্দুর রহিম, কামাল হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন, শহিদুল ইসলাম, মো. সবুজ, সাদ্দাম হোসেন, পারভেজ, আব্বাস আলী, হুমায়ুন কবির প্রমুখ।এই বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ রুহুল আমিন বলেন, তারা রাতের আধারে জোরপূর্বক আমার সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে পেলে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। ঘটনা ঘটেছে গত ফেব্রুয়ারী মাসে। এখন তারা উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেল করে কোন লাভ হবে?। প্রয়োজনে আপনারা এসে দেখে যান আসলে বাস্তবে কি ঘটেছে।

[sharethis-inline-buttons]

আরও পড়ুন

  • লিড এর আরও খবর