• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২
সর্বশেষ আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২
Designed by Nagorikit.com

মীনা দিবসের থিম ও আমাদের করনীয়- আলমগীর হোসেন

কুমিল্লা জার্নাল

মীনা (ইংরেজি ভাষায় Meena) বাংলা ভাষায় নির্মিত একটি জনপ্রিয় কার্টুন। মীনা একটি প্রতিবাদী চরিত্র। সমাজের নানা অসঙ্গতির বিরুদ্ধে অন্যতম চরিত্রের নাম মীনা। বাল্য বিবাহ বন্ধ করা, স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা নির্মাণ ও ব্যবহারে উৎসাহিত করা, মেয়েদের স্কুলে পাঠানো বিদ্যালয়কে গুরুত্ব দেওয়া, যৌতুক বন্ধ করা, ছেলে মেয়ে সমান পুষ্টি ও সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা প্রভৃতি বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে অন্যতম চরিত্র সে নিজে করে দেখায়। অন্যকে করতে শিখায়।

 

১৯৯৫ সালে বিটিভি মীনা কার্টুনটি দেখানো শুরু করে। ১৯৯৮ সালে সার্কের পক্ষ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরকে মীনা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সে সময় থেকে প্রতি বছর ২৪ সেপ্টেম্বর মীনা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর নতুন নতুন প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে দিবসটি পালিত হয়। এবারের থিম ” নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে মান সম্মত শিক্ষা ” এবং কয়েকটি স্লোগান। বিষয় গুলোর গভীরে গিয়ে একটু চিন্তা করি তাহলে দেখবো আসলেই এগুলো গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সব সময়ই বলি বিদ্যালয় হবে শিশু বান্ধব। শিশুর চাহিদা এবং মানসিকতার দিকে খেয়াল রেখে বিদ্যালয়ের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আশার বানী হচ্ছে, বেশীর ভাগ বিদ্যালয়েই ছেলে মেয়েদের তুলনায় মেয়েরা অগ্রগামী। বিদ্যালয়ে তাদের সংখ্যা এবং নিয়মিত উপস্থিতি ছেলেদের তুলনায় বেশি। কিন্তু বাল্য বিবাহ যে একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে তা বলা যাবে না। এখনো হচ্ছে, হয়তো এক সময় পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব।

 

মানসম্মত পায়খানা কিংবা স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা এখন প্রায় সব বিদ্যালয়েই আছে। সুন্দর অবকাঠামো দিয়ে মান সম্মত ওয়াসব্লক শিশুদের উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে। তার মানে শিশুর স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে তার চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি আমরা মিঠুর কথাও ভুলে যাব না। মিঠুও কিন্তু অনেক ভালো। সে মীনার বিপদে আপদে উপকারী বন্ধু। মিঠু চরিত্রের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে বন্ধুত্বের মনোভাব গড়ে উঠে। শিশু শিক্ষা, স্বাস্থ্য পুষ্টি নিরাপত্তা, শিশুদের অধিকার সহ অনেক সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত বার্তা প্রচারের জন্য মীনাকে ব্যবহার করা হয়।

 

এছাড়াও মীনা কার্টুনটি বাংলা, ইংরেজি, উর্দু, হিন্দি ও নেপালী ভাষায় সম্প্রচার করা হয়েছে। কার্টুন ছাড়াও কমিক বই ও রেডিও অনুষ্ঠানে সম্প্রচার হয়েছে। মীনার শেষ চরিত্র গুলোর দিকে শিশুদের প্রাকৃতিক দূর্যোগে করণীয় বিষয়গুলোকে আনা হয়েছে। এটিও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ন। সুনামি আর ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দূর্যোগে শিশুরা ঠিক কী করতে পারে নতুন কার্টুনে সে বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে ‘যাদুর পাথর’ (ম্যাজিক টোন) এবং রুপকথার দেশে মীনা। কার্টুনটির সূচনা সংগীতটিও শিশুদের কাছে খুব প্রিয়।
বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র। শিশুরা শিখে হেসে খেলে। বিদ্যালয়ে শিশুদের চাহিদা সবকিছু থাকবে। শিশুর নিরাপত্তার বিষয়টিও এক্ষেত্রে বিবেচ্য। কোন শিশু যেনো নিরাপত্তা হীনতায় না ভোগে সেদিকেও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। শিশু বিশেষ করে কন্যা শিশুর বিদ্যালয় গমনের ক্ষেত্রে কোন ধরনের বাঁধার সম্মুখীন যেন না হতে হয় সেদিকে সকলকে দৃষ্টি দিতে হবে। সমাজের যে সকল অসঙ্গতি গুলো নিয়ে মীনা চরিত্র সে অসঙ্গতি গুলো দূর করতে শিশুদের সহযোগিতা করা, তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণ আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কন্যা শিশু বেড়ে ওঠা কিংবা বিদ্যালয় গমন নিশ্চিত করতে সকলেই এগিয়ে আসতে হবে।

 

মীনা চরিত্রটিতে দেখা যায় সে নিয়মিত সময়মত স্কুলে যায়। বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করে এবং পরিবারের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করে। এসকল বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিশুদের শিখাতে হবে। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপই হোক সুন্দর এবং শিশুদের জন্য সহযোগিতা মূলক। এভাবেই মীনা দিবসের শ্লোগানের যথার্থতা ফুটে উঠবে।

লেখক
আলমগীর হোসেন
সহকারী শিক্ষা অফিসার, নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা।

আরও পড়ুন

  • লিড এর আরও খবর