• ঢাকা
  • শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২৪ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ২৪ জুলাই, ২০২৬
Designed by Nagorikit.com

এক ভয়ংকর প্রতারণার ফাঁদে ইংরেজি শিক্ষা

কুমিল্লা জার্নাল
[sharethis-inline-buttons]

সাম্প্রতিক সময়ে, গত ৫–৭ বছর ধরে ইংরেজির উত্তরপত্র পরীক্ষা করতে গিয়ে একটি বিষয় খেয়াল করছি, যা আমাকে ভাবাচ্ছে। আমি জানি, বিষয়টি জানার পর যারা দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তাভাবনা করেন, তাঁদের কেউই উদ্বিগ্ন না হয়ে পারবেন না। বিষয়টি পরীক্ষার রাইটিং অংশ নিয়ে।

ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে প্রায় ৮০ নম্বর আসে বিভিন্ন বিষয়ে নিজে থেকে ইংরেজি লিখে। কিন্তু বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই ইংরেজিতে ফ্রি-হ্যান্ড লিখতে পারে না। পূর্বে মুখস্থ করে হলেও তারা কিছু লিখতে পারত। কিন্তু নতুন কারিকুলামে ইংরেজিতে লেখার ওপর জোর দিতে গিয়ে প্রশ্ন আগের মতো কমন পড়ে না। সুতরাং, নিজে থেকে লিখে উত্তর দেওয়া ছাড়া উপায় নেই।শিক্ষার্থীদের এই দুর্বলতাকে কাজে লাগায় একশ্রেণির অসাধু শিক্ষক(?)।

বিশেষ করে যাঁদের ইংরেজিতে কোনো ডিগ্রি নেই, কিন্তু কোচিং সেন্টার খুলে বসে আছেন, তাঁদের কেউ কেউ। তাঁরা কিছু ফরম্যাট তৈরি করছেন—একটি প্যারাগ্রাফ শিখলে ৫০টি লেখা যায়, একটি কম্পোজিশন শিখলে ৩০টি লেখা যায়। একটি লেখায় কিছু ফাঁকা জায়গা থাকে, যেখানে শুধু বিষয়টি লিখলেই চলে।আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এখন আর শেখার কোনো চেষ্টাই করে না। ক্লাসে যতই চেষ্টা করি, তারা কোনো আমলেই নেয় না। কলেজের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায়ও এই ধরনের লেখা লেখে, আবার পাবলিক পরীক্ষাতেও একইভাবে নির্দ্বিধায় লেখে। অবশ্যই কম নম্বর পায়।

তবে নম্বর পাওয়াটা বড় বিষয় নয়। আমরা একটি প্রজন্ম তৈরি করছি, যারা এক লাইন শুদ্ধ ইংরেজি লিখতে পারছে না। বাধ্যতামূলক ইংরেজি শিক্ষার উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে।আমাদের শিক্ষকদের উচিত, অন্তত অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় এই ধরনের লেখাকে শূন্য নম্বর দেওয়া, যেন ফাইনাল পরীক্ষার পূর্বেই তারা বুঝতে পারে যে এই ধরনের লেখায় নম্বর পাওয়া যাবে না। এ ব্যাপারে আশু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।আমরা যারা ইংরেজির শিক্ষক, তাদের এটি নৈতিক দায়িত্ব—রাষ্ট্র আমাদের ওপর জাতির ইংরেজি শিক্ষার দায়িত্ব দিয়েছে। সুতরাং, ব্যর্থতার দায় আমাদেরই নিতে হবে।

আসুন, এই ধরনের লেখাকে না বলি এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে ফ্রি-হ্যান্ড লেখার চর্চায় উৎসাহিত করি।দুর্বৃত্তমুক্ত হোক ইংরেজি শিক্ষা।

মো: সেলিম শিকদার, সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান- ইংরেজি বিভাগ, কুমিল্লা সরকারি কলেজ।

[sharethis-inline-buttons]

আরও পড়ুন

  • লিড এর আরও খবর