• ঢাকা
  • রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৮ আগস্ট, ২০২৬
Designed by Nagorikit.com

দাউদকান্দি উপজেলায় স্কুল শিক্ষার্থীর উপর সন্ত্রাসী হামলা,নারীসহ আহত ৪

কুমিল্লা জার্নাল
[sharethis-inline-buttons]

স্টাফ রিপোর্টার।। কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পূর্ববিরোধের জেরে স্কুল শিক্ষার্থীর উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ধারালো রামদা, চাপাতি, লোহার রড ও লাঠি দিয়ে হামলায় নারীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এক নারী দাউদকান্দি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।গত ৬ আগস্ট দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার মারুকা ইউনিয়নের কাটারাপাড়া এলাকার হুমায়ুন তালুকদার (সাক্ষীর) মালিকানাধীন দোকানের সামনে পাকা সড়কের ওপর এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগকারী মোর্শেদা বেগম (৪৪) দাউদকান্দি থানায় দেওয়া অভিযোগে বলেন, বিবাদীদের সঙ্গে তাঁর ছেলে মো. রিয়াম হোসেন ও দেবরের ছেলে মো. সিয়ামের খেলাধুলা নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের জেরে বিবাদীরা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সময় গালাগাল, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন।অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার দিন দুপুরে মোর্শেদা বেগমের ছেলে রিয়াম হোসেন ও দেবরের ছেলে সিয়াম স্কুল ছুটির পর বাড়িতে ফেরার পথে অভিযুক্তরা তাঁদের উদ্দেশে রওনা হন। পরে কাটারাপাড়া এলাকার হুমায়ুন তালুকদারের দোকানের সামনে তাঁদের পথরোধ করা হয়।অভিযোগকারী আরও বলেন,অভিযুক্ত মো. ফারুক ভূঁইয়া, মোছা. সরিয়া আক্তার, মো. রিপন ভূঁইয়া, মোছা. মানছুরা আক্তার ও মো. নাজির মিয়াসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো রামদা, চাপাতি, লোহার রড, লোহার পাইপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাঁর ছেলে রিয়াম হোসেন ও দেবরের ছেলে সিয়ামকে গালাগাল করতে থাকেন। তাঁরা প্রতিবাদ করলে বিবাদীরা তাঁদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, হামলায় রিয়াম ও সিয়াম আহত হন। পরে রিয়ামকে মারধর করে নীলাফুলা জখম করা হয়। একপর্যায়ে একজন অভিযুক্ত ধারালো রামদা দিয়ে রিয়ামকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ দেন। এই সময় সাথে তার মামা ইব্রহিম (১৭) তাকে বাঁচাতে হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করলে তাঁর ডান হাতের কবজিতে গুরুতর কাটা জখম হয় এবং প্রায় ৩৯টি সেলাই লাগে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ছাড়া চাপাতি দিয়ে রিয়ামের মাথায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কোপটি ঠেকাতে গেলে তাঁর ডান হাতের আঙুলে গুরুতর জখম হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে গেলেও তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মোর্শেদা বেগম।অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনাস্থলে থাকা অন্যান্য বিবাদীরা মোর্শেদা বেগমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করে নীলাফুলা ও থেঁতলানো জখম করেন। এ সময় তাঁর পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলা এবং শ্লীলতাহানি করারও অভিযোগ করা হয়েছে।এ ছাড়া গলায় থাকা এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ টাকা, নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।মোর্শেদা বেগমের দাবি, তাঁদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে প্রাণে মেরে ফেলা এবং বাড়িঘরে ক্ষতিসাধনের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।পরে আহত রিয়ামকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, রিয়াম বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন।মোর্শেদা বেগম জানান, ঘটনার পর থেকে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ায় তিনি দাউদকান্দি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।অভিযোগে মোর্শেদা বেগম আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

[sharethis-inline-buttons]

আরও পড়ুন

  • অপরাধ এর আরও খবর