নিজস্ব প্রতিবেদক:কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মো. মনিরুল হক সাক্কু বলেছেন, “আমার নেতা তারেক সাহেবকে বলবো, স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণহত্যার বিচার করেন। না হলে জনগণ আপনাদের ছাড়বে না। তাদের জীবনের বিনিময়ে আজ আমরা কথা বলতে পারতেছি। সুতরাং তারাই শ্রেষ্ঠ।”তিনি বলেন, “আগামী ছয় মাসের মধ্যে যদি এই গণহত্যার বিচার শুরু না হয়, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামবো। আর কত দিন?”মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জুলাই শহিদ ও আহত ব্যক্তিবর্গ, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মত্যাগের স্মরণে তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মনিরুল হক সাক্কু।কুমিল্লা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরে আলম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কুমিল্লা শহর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুস সালাম মাসুক, কুমিল্লা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রফিকুল ইসলাম খাঁন, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুবুল হক খন্দকার, কুমিল্লা (দক্ষিণ) জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেন, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া, চেম্বার অব কমার্স কুমিল্লার সহ-সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির, কুমিল্লা জেলা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুর রহমান এবং কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শরিফুল ইসলাম।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক নেতা মো. কবির হোসেন মজুমদার।বক্তব্যে ৫ আগস্টের ঘটনার স্মৃতিচারণ করে সাক্কু বলেন, “৫ আগস্ট কুমিল্লার ডিসি, এসপি বারবার কল দিচ্ছে—আমাদের বাঁচান। পুলিশ লাইন, থানা ভাঙচুর হচ্ছে। আমি ছোট ভাই রিংকুকে বললাম, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করো। সে নেতাকর্মী ও আইনজীবীদের নিয়ে দায়িত্ব পালন করে।”তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্ট বিকেলে রিংকু, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ভাইসহ আমার ভাতিজা গুলিবিদ্ধ হয়। ১০ দিন পর কালাম ভাই মারা যান। এ হত্যার বিচার হবে। এই বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমি নিজেকে অপরাধী মনে করি।”জুলাই শহিদ-আহত স্মৃতি সংস্থা কুমিল্লার আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারাও বক্তব্য দেন।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মনিরুল হক সাক্কু বর্তমানে দলের কোনো পদ-পদবিতে নেই। তবে কুমিল্লার মানুষ সাক্কুর সঙ্গে ছিলেন এবং আছেন। বৃষ্টি ও নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা উপেক্ষা করে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি তারই প্রমাণ। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনগণ ভোটের মাধ্যমে তা প্রমাণ করবে এবং সাক্কু কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র হবেন বলেও তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
[sharethis-inline-buttons]
আপনার মতামত লিখুন :