কুবি প্রতিনিধি :
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) স্পোর্টস স্কলারশিপ ২০২৬ এর মনোনয়ন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীর দাবি, যোগ্য হয়েও তালিকাভুক্ত করা হয়নি তাদের।
স্কলারশিপের নথি অনুযায়ী, ২০২৬ এ ব্যাডমিন্টন (ছাত্রী) ইভেন্টে মনোনীত হয়েছেন সাবরিনা তাসনিম মনিকা এবং মারিয়া ইসলাম রিদিকা, ব্যাডমিন্টন (ছাত্র) ইভেন্টে মনোনীত হয়েছেন আমিনুল ইসলাম হৃদয় এবং শাহ মো. রাকিবুল ইসলাম রিয়াদ, ভলিবল (ছাত্রী) ইভেন্টে মনোনীত হয়েছেন স্মৃতিমা তাজরিয়ান এবং আসমা আক্তার, ভলিবল (ছাত্র) ইভেন্টে মনোনীত হয়েছেন মো. মাহমুদুর রহমান এবং এম. এইচ পিয়াস, ফুটবল (ছাত্র) ইভেন্টে মনোনীত হয়েছেন মো. মাজহারুল ইসলাম এবং আকাশ দাশ, ক্রিকেট (ছাত্র) ইভেন্টে মনোনীত হয়েছেন মো. আবু নূরে মোস্তাক এবং অভিজিৎ বণিক।
এর মধ্যে ছাত্রদের চারটি ইভেন্টেরই মনোনয়ন নিয়ে অভিযোগ রয়েছে শিক্ষার্থীদের। আন্তঃবিভাগ ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন এবং ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্ট হওয়া সৌরভ সিদ্দিকী ও তার সতীর্থ জয় রায় এই স্কলারশিপের জন্য তালিকাভুক্ত হয়নি। অপরদিকে স্কলারশিপের জন্য তালিকাভুক্ত দু’জন শিক্ষার্থীই রানার্সআপ দলের।
এদিকে ভলিবল (ছাত্র) ইভেন্টে মনোনয়ন প্রাপ্ত দু’জনই চ্যাম্পিয়ন দলের তবে রানার্সআপ দলের অধিনায়ক এবং আন্তঃবিভাগ ভলিবল প্রতিযোগিতার ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্ট সৌরভ সিদ্দিকী মনোনয়ন পাননি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ভলিবল দলের অধিনায়ক ফাহিম চৌধুরীও মনোনয়ন পাননি।
ক্রিকেট (ছাত্র) ইভেন্টে আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার টপ রান স্কোরার রিয়াদ সাকিব মনোনীত হননি, সেখানে মনোনীত অভিজিৎ বণিকের আবেদন নির্ধারিত তারিখের পরে গ্রহণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফুটবল (ছাত্র) ইভেন্টে আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতার ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্ট মেহেরাজ আলভি স্কলারশিপের জন্য মনোনীত হননি।
আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার টপ রান স্কোরার রিয়াদ সাকিব বলেন, ‘আমি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের টপ রান স্কোরার তাই আমার এই স্কলারশিপ পাওয়া উচিত বলে মনে করি। স্পোর্টস কমিটি কিভাবে বিষয়টি বিবেচনা করেছে তা আমার জানা নেই। তবে শুনতে পাচ্ছি ভলিবল, ব্যাডমিন্টন সকল ইভেন্টেই এমন ঝামেলা হয়েছে।’
আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতার ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্ট মেহেরাজ আলভি বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল ইভেন্টে পরপর দুইবার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছি। মেধাবৃত্তি যদি ধারাবাহিক মেধা ও সিজিপিএ এর ভিত্তিতে একজন শিক্ষার্থী একাধিকবার পেতে পারে, তাহলে স্পোর্টসে কেন ভিন্ন নিয়ম প্রযোজ্য হবে? ভালো পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি দেওয়ার পরিবর্তে, “একবার পেয়েছো, আর পাবে না” এমন নীতির যৌক্তিকতা কী? আবার কয়েকটি সেগমেন্টে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিগত অর্জন ছাড়াই অনেকে স্পোর্টস স্কলারশিপ পেয়েছেন। তাহলে মূল্যায়নের মানদণ্ড বা ভিত্তি কী ছিল? আমি মনে করি, এই ধরনের নীতি পারফরম্যান্সভিত্তিক মূল্যায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অনতিবিলম্বে একটি স্বচ্ছ, সুস্পষ্ট ও অর্জনভিত্তিক স্কলারশিপ নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।
আন্তঃবিভাগ ভলিবল ও ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্ট এবং কুবি স্পোর্টস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ সৌরভ সিদ্দিকী বলেন, ‘এ বছর স্কলারশিপ প্রদানের প্রক্রিয়ায় কিছু অসঙ্গতি রয়েছে। একজন খেলোয়াড় একবার স্কলারশিপ পেলে পরবর্তীতে আর পাবে না, এমন নিয়ম থাকলে তা পুনর্বিবেচনা করা উচিত। যারা ভালো পারফর্ম করবে, তারাই স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্য। আবার, একজন খেলোয়াড় একাধিক সেগমেন্টে ব্যক্তিগতভাবে উল্লেখযোগ্য অর্জন করেও স্কলারশিপ পাচ্ছে না। স্কলারশিপের মানদণ্ড আরও স্বচ্ছ ও অর্জনভিত্তিক হওয়া উচিত। যাদের ব্যক্তিগত অর্জন ও পারফরম্যান্স খুব ভালো তাদেরই স্কলারশিপ দেওয়ার নীতিমালা প্রণয়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই।’
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুল ইসলাম গালিব বলেন, ‘আমি প্রথম বর্ষে ফুটবল এবং ভলিবলে চ্যাম্পিয়ন হই তখন আমাকে বলা হয় আমি জুনিয়র তাই আমাকে দেওয়া হবে না। তারপর যখন আরেকবার রানার্সআপ হই তখন জানানো হয় ব্যক্তিগত অর্জনের ভিত্তিতে দেওয়া হবে। তবে এ কথা বললেও গতবার ব্যক্তিগত অর্জন থাকা সত্ত্বেও অনেক খেলোয়াড় স্কলারশিপ পায়নি। আমি স্পোর্টস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চাই এই স্কলারশিপের একটা সঠিক মানদণ্ড তৈরি হোক।’
এ ব্যাপারে শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপ পরিচালক এবং স্পোর্টস কমিটির সদস্য সচিব মনিরুল আলম বলেন, ‘আমরা লিখিত নিয়ম অনুযায়ী এটা করেছি যে যিনি একবার স্কলারশিপ পেয়েছেন তিনি আর পাবেন না। অন্যান্য স্কলারশিপের তুলনায় আমাদের স্কলারশিপের সংখ্যা কম তাই এই নিয়ম করেছি।’
তবে এব্যাপারে লিখিত নথি দেখতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনার কি আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছে না? এটা আমি দেখাতে পারবো না ‘
নির্ধারিত সময়ের পর আবেদন গ্রহণ করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সময় ছিল ২০ তারিখ পর্যন্ত তবে সেদিন ওয়ার্কিং ডে না থাকায় সেটা ২১ তারিখ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছি। এখানে সকলে আমরা আমরা কারো তো সমস্যা হওয়ার কথা না।’
অভিযোগ পেলে পুনরায় বিবেচনা হবে কীনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যদি খেলোয়াড়রা অভিযোগ দেয় তাহলে আমরা মিটিং বসে আলোচনা করতে পারি।’
স্পোর্টস কমিটির আহ্বায়ক ড. সোহরাব উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের স্পোর্টসের স্কলারশিপটা অনেক কম তাই একজন খেলোয়াড় যাতে বারবার না পায় সবাই এটা পায় সেজন্য আমরা এমন নিয়ম করেছি। তবে আমরা স্কলারশিপ বাড়ানোর জন্য প্রস্তাবনা দিবো যদি এটা হয় তখন আমরা এরকম করতে পারি যে একজন যাতে দুইবার স্কলারশিপটা পায়। স্পোর্টস কমিটির যারা আছি আমরা সকলে মিলে বসে অনেক বিশ্লেষণ করে কাকে দিবো এটা ঠিক করি। এখানে সবদিক বিবেচনা করি আমরা।’
নির্ধারিত সময়ের পর আবেদন গ্রহণ করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক শিক্ষার্থী বিষয়টি সঠিক ভাবে বুঝতে পারেনি তারা বিভাগে আবেদন জমা দিয়ে ফেলেছে ভুলে। ২১ তারিখে আমরা মিটিংয়ে বসেছি তখন এটা আমরা কনসিডার করেছি যে আবেদন তো সে করেছে সে তো কোনো না কোনো ইভেন্টে খেলেছে তাই এটি আমরা বিবেচনা করেছি।’
[sharethis-inline-buttons]
আপনার মতামত লিখুন :