কুবি প্রতিনিধি:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রমাগত হারে বাজেট বৃদ্ধির সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে বাজেট ঘাটতিও। গত অর্থবছরের তুলনায় এই অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটের সাথে পাশকৃত বাজেট ঘাটতির প্রবৃদ্ধির হার ৩৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। যেখানে দুই অর্থবছরে পাশকৃত বাজেটের প্রবৃদ্ধির হার মাত্র সাত দশমিক ৪৫ শতাংশ। ফলে প্রত্যাশিত বাজেটে না পাওয়ারয় সীমাবদ্ধতা নিয়েই প্রতিবছরের ন্যায় নতুন অর্থবছর শুরু করবে বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯ জুন (সোমবার) ১১০তম সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান এই বাজেট উপস্থাপন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়টির বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে ১০৬ কোটি টাকার চার হাজার টাকা। বিপরীতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৮৩ কোটি ২৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। ফলে চাহিদা ও অনুমোদিত বাজেটের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রস্তাবিত বাজেটের সাথে পাশকৃত বাজেটের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ ঘাটতি।
এছাড়া পাশকৃত বাজেটের মধ্যেও ঘাটতি রয়েছে ৯০ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। মোট বাজেটের মধ্যে ৭১ কোটি ৬২ লাখ ১৫ হাজার টাকা আসবে ইউজিসি থেকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া প্রারম্ভিক জের হিসেবে রয়েছে ২ কোটি ১ লাখ ৮২ হাজার টাকা। ফলে সবমিলিয়ে পাশকৃত বাজেট থেকেও প্রায় ৯১ লাখ টাকা ঘাটতি রয়েছে।
তবে বাজেট ঘাটতি নিয়ে প্রশাসন জানায়, অনেক খাতের বাজেট মূল বাজেটের সঙ্গে আসে না, ধাপে ধাপে পরবর্তীতে প্রয়োজনের ভিত্তিতে আসে। কিন্তু এগুলোকেও প্রস্তাবনায় রাখতে হয়। ফলে এই ঘাটতি দেখা যায়।
বিগত বছরের বাজেট-সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত কয়েক অর্থবছর ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রস্তাবিত চাহিদা ও অনুমোদিত বরাদ্দের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা ছিল ৯২ কোটি ৭০ লাখ ৪২ হাজার টাকা। তবে অনুমোদন দেওয়া হয় ৭৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রায় ১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা বা চাহিদার প্রায় ১৮ শতাংশ কম বরাদ্দ নিয়ে ওই বছরের বাজেট পাস হয়।
এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অনুমোদিত বাজেটে ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকার ঘাটতি ছিল। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ ১৪ হাজার টাকা। ওই বছর ইউজিসি থেকে ৫৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা যোগ করা হয় এবং রিজার্ভ তহবিল থেকে ঋণ হিসেবে নেওয়া হয় ৬৮ লাখ ১৬ হাজার টাকা।
ঘাটতি বাজেটের বিষয়ে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, এইবারে আমাদের একটু ঘাটতি হয়েছে। কয়েকটি খাতে আমরা এখনো বরাদ্দ পাইনি। বিআরটিসি বাসের ভাড়া, আউটসোর্সিং খাত ও গবেষণা খাতের টাকা পাইনি। এজন্য আমরা ঘাটতি বাজেট উপস্থাপন করেছি। তবে এই টাকাগুলো আমরা পাব, প্রক্রিয়ার কারণে টাকা পেতে সমস্যা হচ্ছে।’
[sharethis-inline-buttons]
আপনার মতামত লিখুন :