• ঢাকা
  • শনিবার, ৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮ মে, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৮ মে, ২০২৬
Designed by Nagorikit.com

আজ ব্রিগেডে শপথ, থাকছেন নরেন্দ্র মোদিকাঁথি থেকে বাংলার মসনদে

কুমিল্লা জার্নাল
[sharethis-inline-buttons]

পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। জেলার একটি পুরসভার কাউন্সিলর হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করে অবশেষে হলেন রাজ্যের কর্ণধার। জেলা থেকে তিনিই দ্বিতীয় ব্যক্তি, যিনি মুখ্যমন্ত্রী হলেন। এর আগে তারই জেলা পূর্ব মেদিনীপুর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন অজয় মুখোপাধ্যায়। গত কয়েকদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার নামটিই বেশি আলোচনায় ছিল। শুক্রবার পরিষদীয় দলের নির্বাচিত হওয়ার পর তার নাম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা দলের নেতা নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আটটি প্রস্তাব এসেছিল। সব প্রস্তাবে একটিই নাম ছিল। দ্বিতীয় নামের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেয়া হয়েছিল, কিন্তু কোনো দ্বিতীয় নাম আসেনি। তাই শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করছি।’ এদিন বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজয়ী ২০৭ জন বিধায়ককে নিয়ে বৈঠকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অমিত শাহ। সেই বৈঠকেই শুভেন্দুকে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত করা হয়।এবার বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতার ভবানীপুর আসনে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আবার আরেকটি আসন নন্দীগ্রামেও তিনি জয়ী হয়েছেন।এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১ হাজার ৯৫৬ ভোটে হারিয়েছিলেন। নিজের ঘরের মাঠে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে হারানোর পর এবার মমতার পাড়ায় এসে তাকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন শুভেন্দু।নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, নতুন সরকার সোনার বাংলার স্বপ্ন পূরণে সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। মমতা ব্যানার্জির কথিত স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ভোট দেয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। রাজ্যে এই ঐতিহাসিক জনরায় অর্জনের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করা সমস্ত বিজেপি কর্মীদেরও তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন।সেইসঙ্গে তিনি কথিত অনুপ্রবেশকারীদের কথা উল্লেখ করেন। অমিত শাহ স্পষ্ট বলেন, সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গে তারা ক্ষমতায় এসেছেন, সেই সোনার বাংলায় অনুপ্রবেশকারীদের কোনো ঠাঁই নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, ‘বাংলার মানুষকে আমি কথা দিচ্ছি আগামী পাঁচ বছরে দেশ থেকে খুঁজে বের করে করে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াবো।’স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, ‘মেরূকরণ নয়, বিজেপি এই অনুপ্রবেশকারীদের কথা বলে শুধু জাতীয় সুরক্ষার জন্য। জাতীয় সুরক্ষায় কোনো আপস করা হবে না।’ শাহ বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের মুক্তাঞ্চল হয়ে থাকতে দেবো না বাংলাকে।পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে নাম ঘোষণা হওয়ার পরই শুভেন্দু জানিয়ে দিলেন, তার মন্ত্র হবে ‘চরৈবেতি’। জানিয়েছেন, সকলকে পাশে নিয়েই এগিয়ে যাবেন তিনি। নবনির্বাচিত দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী শুক্রবার সন্ধ্যায় লোক ভবনে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল টি এন রবির সঙ্গে দেখা করে সমস্ত বিধায়কের স্বাক্ষর করা সম্মতিপত্র তুলে দেন। এবং মন্ত্রিসভা গঠনের দাবি জানান। রাজ্যপালও তাকে মন্ত্রিসভা গঠনের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।শনিবার সকাল ১১টায় কলকাতার আইকনিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ বিজেপি’র নেতৃত্ব ও ২১ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শুভেন্দু রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। এই শপথ অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিল্পপতি, রাজ্যের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, পদ্ম পুরস্কার প্রাপক ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন তারকারা। রাজনৈতিক দলের নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।শুভেন্দু অধিকারী ১৯৯৫ সালে জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কাঁথি পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। ২০০৬ সালে শুভেন্দু কাঁথি দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে প্রথম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নির্বাচিত হন। একই বছরে তিনি কাঁথি পৌরসভার চেয়ারম্যানও হন।এরপর ২০০৯ ও ২০১৪ সালে শুভেন্দু তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক কেন্দ্র থেকে। ২০২০ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। ২০২১ সালে নন্দীগ্রাম থেকে মমতাকে হারিয়ে বিজেপি’র হয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। হয়েছিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা।মন্ত্রী হবেন কারা?মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর নাম ঘোষণার পর এখন আলোচনা শুরু হয়েছে মন্ত্রিসভার গঠন নিয়ে। শনিবার শুভেন্দুর সঙ্গে আর কে কে শপথ নেবেন তা নিয়েও রয়েছে কৌতূহল। তবে শোনা গেছে, মন্ত্রিসভায় এবারই প্রথম দু’টি উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদ রাখা হতে পারে। সূত্র থেকে জানা গেছে, দু’টি উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদের মধ্যে একটি সম্ভবত একজন নারী নেত্রীকে দেয়া হতে পারে। আসানসোল দক্ষিণ থেকে বিজয়ী বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এই দৌড়ে এগিয়ে আছেন বলে জানা গেছে। দ্বিতীয় উপ-মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গ থেকে নিযুক্ত হতে পারেন। জল্পনা চলছে যে, দিলীপ ঘোষকে দ্বিতীয় উপ-মুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে।এদিকে, মন্ত্রী হতে পারেন এমন সম্ভাব্যদের তালিকায় শোনা যাচ্ছে নিশীথ প্রামাণিক (উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন), রুদ্রনীল ঘোষ তথ্য সংস্কৃতি), পীযূষ কানোরিয়া (স্বাস্থ্য) স্বপন দাশগুপ্ত (অর্থ), শঙ্কর ঘোষ (শিক্ষা), কৌস্তভ বাগচি (আইন), অশোক দিন্দা (স্পোর্টস), ক্ষুদিরাম টুডু (আদিবাসী) প্রমুখের নাম। এ ছাড়া, রুপা গাঙ্গুলি, চন্দনা বাউড়ি, দিব্যেন্দু অধিকারীও মন্ত্রী হতে পারেন। তবে সব জেলার প্রতিনিধিত্ব রাখার চেষ্টা হবে বলে জানা গেছে।

[sharethis-inline-buttons]

আরও পড়ুন

  • আন্তর্জাতিক এর আরও খবর