• ঢাকা
  • রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ২১ জুন, ২০২৬
Designed by Nagorikit.com

বাবাকে নিয়ে কুবি শিক্ষার্থীদের আবেগ, স্মৃতি ও শ্রদ্ধা

কুমিল্লা জার্নাল
[sharethis-inline-buttons]
Oplus_131072

কুবি প্রতিনিধি:

ছেলেবেলায় মেলা থেকে কিনে আনা প্লাস্টিকের বন্দুক কিংবা খেলনা গাড়িটির জন্য নিজের ক্ষয়ে যাওয়া মানিব্যাগের নীরব আত্মত্যাগ, অথবা প্রতিটি উৎসবে নিজের জন্য নতুন একটি শার্ট কেনার পরিকল্পনা হেসে উড়িয়ে দিয়ে সন্তানের পছন্দের আবদার পূরণ, শত অভাবের সংসারেও যিনি নির্দ্বিধায় সকলের আবদার পূরনেই সমগ্র জীবন উৎসর্গ করে যান, তিনিই বাবা।

মায়েরা খুব সহজেই সন্তানকে বুকে জড়িয়ে আদর করতে পারেন, কিন্তু বাবারা সেই ব্যাকরণে যেন কিছুটা আটকে পড়েন। তাঁদের ভালোবাসার কোনো লিখিত দলিল থাকে না; তা প্রকাশ পায় ক্লান্ত চোখে, সন্তানের সাফল্যে গোপনে মুছে ফেলা আনন্দ অশ্রুতে, কিংবা নীরবে করে যাওয়া অসংখ্য ত্যাগের মহিমায়।

আজ ২১ জুন, বিশ্ব বাবা দিবস। প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে বাবা দিবস হিসেবে পালিত হয় এই দিনটি। বছরের বাকি ৩৬৪ দিন নিজের ক্লান্তি, দুঃখ আর দীর্ঘশ্বাসকে হাসির আড়ালে লুকিয়ে রাখা মানুষটির প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানানোর এক বিশেষ উপলক্ষ্য এটি। ১৯১০ সালে সনোরা স্মার্ট ডডের উদ্যোগে যাত্রা শুরু হওয়া এ দিবস আজ বাবা ও সন্তানের সম্পর্কের উষ্ণতা স্মরণ করার একটি বৈশ্বিক আয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ব্যস্ততা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা অ্যাসাইনমেন্টের চাপের মাঝেও হঠাৎ যখন ফোনের স্ক্রিনে ‘বাবা’ নামটি ভেসে ওঠে, তখন মনটা কেমন যেন হুঁ হুঁ করে ওঠে। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া হচ্ছে কি না, টাকার প্রয়োজন আছে কি না কিংবা পড়াশোনার খবর নেওয়া, ফোনের ওপার থেকে ভেসে আসা এসব কথাই যেন এক অন্যরকম প্রশান্তি এনে দেয়।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীদের কাছেও বাবা দিবস এমনই এক অনুভূতির নাম। বিশ্ব বাবা দিবসে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও শোনালেন তাঁদের অনুভূতি, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার গল্প।

বাবাকে নিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিসা তানজিম নিশু বলেন, “ছোট্ট হাতটি ধরে হাঁটতে শেখানো থেকে শুরু করে জীবনের সব ঝড়-ঝাপটা সামলে ওঠার শিক্ষা যিনি দেন, তিনি বাবা। ছোটোবেলায় মায়ের বকা থেকে শুরু করে বড়োবেলার দুঃখ-কষ্ট সবকিছু থেকে যিনি আগলে রাখেন, তিনি বাবা। মুখে না বলেও আদর, যত্ন ও শাসনের মাধ্যমে যিনি বুঝিয়ে দেন, ‘ভয় নেই, আমি আছি’, তিনি বাবা। অনুপ্রেরণা, শক্তি, স্বস্তি, মুক্তি ও আশ্রয়ের আরেক নাম বাবা। পৃথিবীর সকল বাবা দীর্ঘদিন বেঁচে থাকুন।”

অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী জয়ন্ত কর্মকার বলেন, “বাবা শুধু একটি শব্দ নন, তিনি সন্তানের ভরসা, নিরাপত্তা ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতীক। নিজের সুখ-স্বপ্ন ত্যাগ করে সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে তিনি নিরলস পরিশ্রম করেন। তাঁর ত্যাগ ও ভালোবাসার ঋণ কখনো শোধ করা সম্ভব নয়। বাবা দিবসে সকল বাবার প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।”

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন সাগর বলেন, “বাবার প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিনের প্রয়োজন নেই। একজন বাবা সারাজীবন সন্তানের সুখ, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের জন্য নিরলস পরিশ্রম করেন। নিজের কষ্ট আড়াল করে সন্তানের মুখে হাসি ফোঁটানোর চেষ্টা করেন। তাই আমাদের দায়িত্ব সবসময় বাবাকে সম্মান করা, তাঁর মান-সম্মান রক্ষা করা এবং ভালোবাসা প্রকাশ করা। তবুও বাবা দিবস উপলক্ষে আমার বাবাসহ পৃথিবীর সকল বাবার প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।”

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী তাসনুভা তাহসিন বলেন, “বাবার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিনের প্রয়োজন নেই; বছরের প্রতিটি দিনই বাবার জন্য। ছোটোবেলা থেকে তাঁর স্নেহ, শাসন ও শিক্ষার মধ্যেই বড় হয়েছি। একসময় যে শাসনকে ভয় পেতাম, আজ সেটিই সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে। আমার জীবনে দেখা সেরা মানুষ তিনি, যার ভালোবাসা ও আশ্রয় আমাকে সবসময় আগলে রাখে। পৃথিবীর সকল বাবা সুস্থ ও ভালো থাকুক।”

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় আমাদের বন্ধু, বদলে যায় আড্ডার চত্বর। এই অচেনা পৃথিবীতে আমরা খুঁজে ফিরি এক বুক ভরসা আর নিরাপদ আশ্রয়। অথচ নিয়তির কী অদ্ভুত পরিহাস আমরা অনেক সময় ভুলেই যাই, আমাদের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় আর সবচেয়ে বড় বন্ধুটি হয়ত কোনো এক নিভৃত বিকেলে ঘরের সেই চেনা চেয়ারটিতে বসে এখনও আমাদের ফেরার অপেক্ষায় আছেন।

[sharethis-inline-buttons]

আরও পড়ুন

  • ক্যাম্পাস এর আরও খবর