সরকার গঠন নিয়ে শুক্রবার দিনভর রাজনৈতিক নাটকীয়তা দেখা গেছে ভারতের তামিলনাড়ুতে। বারবার বদলেছে সমর্থনের হিসাব। এক পর্যায়ে সরকার গঠন প্রায় নিশ্চিত হলেও শেষ মুহূর্তে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জটিলতায় আবারও আটকে গেলেন অভিনেতা-রাজনীতিক ‘থালাপতি’ বিজয়। কংগ্রেস এবং বামপন্থি দল সিপিআই ও সিপিএমের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত হয়েছিল বিজয়ের দল তামিলাগা ভেটরি কালাগামের (টিভিকে)। শুক্রবার বিকেলে দলগুলো টিভিকেকে সমর্থনের কথাও জানায়। তবে শেষ পর্যন্ত তামিলনাড়ুর গভর্নর রাজেন্দ্র আর্লেকার সন্তুষ্ট হননি। বিজয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারেননি বলে জানিয়ে তিনি টিভিকেকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাননি। ফলে শনিবারেও শপথ গ্রহণ হচ্ছে না বিজয়ের।কংগ্রেস ও বামেদের সমর্থন পাওয়ার পর পরিস্থিতি অনুকূলে মনে হলেও শেষ মুহূর্তে আইইউএমএল সরে দাঁড়ায়। পাশাপাশি ভিসিকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট না করায় এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে কবে সরকার গঠন সম্ভব হবে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় এখনো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে পারেনি টিভিকে। গতকাল তৃতীয় দফায় গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজয়। দুই বাম দল সিপিআই ও সিপিআই (এম)-এর পক্ষ থেকে ‘নিঃশর্ত সমর্থন’ পাওয়ার পর তিনি সরকার গঠনের দাবি জানান। বিধানসভায় এ দুই দলেরই দুজন করে বিধায়ক রয়েছেন।তবে বিজয়ের দল ১০৮টি আসন জিতলেও এখনো পর্যন্ত ভিসিকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেয়নি। গভর্নরের কাছে দেওয়া টিভিকের স্মারকলিপিতেও ভিসিকের কোনো সমর্থনপত্র ছিল না। কংগ্রেসের ৫ বিধায়কের সমর্থন থাকলেও বিজয়ের দল এখনো সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা ছুঁতে পারেনি। বিজয় নিজে দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটিতেই জয়ী হয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী ফল ঘোষণার ১৪ দিনের মধ্যে তাঁকে একটি আসন ছাড়তে হবে। এ কারণে শুক্রবার রাত পর্যন্ত বিজয়ের জোটের পক্ষে রয়েছেন ১১৭ জন বিধায়ক। ভিসিকের দুই বিধায়ক যোগ দিলে সেই সংখ্যা হবে ১১৮, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমার ঠিক ওপরে।এদিকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি কে সেলভাপেরুনথাগাই জানিয়েছেন, টিভিকে তাদের দুটি মন্ত্রিত্ব ও একটি রাজ্যসভা আসনের প্রস্তাব দিয়েছে। দুই বাম দল জানিয়েছে, তারা সরকারে যোগ না দিয়ে বাইরে থেকে সমর্থন দেবে। তবে ভিসিকে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও দলের ডেপুটি জেনারেল সেক্রেটারি ভান্নি আরাসু সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে দাবি করেছেন, তাদের দলের জন্য উপমুখ্যমন্ত্রী পদ ও একটি মন্ত্রিত্ব চাওয়া হয়েছে। সোমবারের নির্বাচনের ফলে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে পাঁচ দশকের দ্রাবিড় আধিপত্য ভেঙে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বিজয়ের নতুন দল টিভিকে। তবে এরপর থেকেই সরকার গঠন নিয়ে দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।
[sharethis-inline-buttons]
আপনার মতামত লিখুন :