নিজস্ব প্রতিবেদক, মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা):
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ১নং বাইশগাঁও ইউনিয়নে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। দলীয় প্রতীক ছাড়া সম্ভাব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের এই আবহে তৃণমূলের সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনায় উঠে এসেছেন বাইশগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম। এলাকায় টানা গণসংযোগ, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং কর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে তিনি নিজেকে শক্ত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরছেন।
মাঠপর্যায়ে জোর গণসংযোগ ও প্রস্তুতি
নির্বাচনী মাঠ গোছাতে দীর্ঘদিন ধরেই তৎপর রয়েছেন শাহ আলম। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড ও গ্রামে নিয়মিত উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে তিনি সাধারণ ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন। কেন্দ্রীয় বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের উপস্থিতিতে বাইশগাঁও ইউনিয়নে আয়োজিত কর্মী সভা ও নির্বাচনী জনসভায় শাহ আলমের পক্ষে কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি তাঁর এই অবস্থানকে আরও জোরালো করে তুলেছে। নির্বাচনী মাঠের সাধারণ কর্মীরা মনে করছেন, দলের জন্য ত্যাগী ও তৃণমূলের প্রিয় মুখ হিসেবে শাহ আলম বাইশগাঁও ইউনিয়নে একজন শক্তিশালী প্রার্থী।
অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ
তবে শাহ আলমের এই নির্বাচনী যাত্রার পথ পুরোপুরি মসৃণ নয়। বাইশগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মুক্তার হোসেন বাসেত এবং সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলমের নেতৃত্ব নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বেশ দ্বিমত তৈরি হয়েছে। গত বছরের শেষভাগে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের একাংশের ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে বিষোদগার করেন। স্থানীয় ওই সংবাদ সম্মেলনে শাহ আলমের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক দায়িত্বহীনতা ও একমুখী সিদ্ধান্তের অভিযোগ আনা হয়, যা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি পরিবারে এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা
সাংগঠনিক এই রেষারেষি সত্ত্বেও সাধারণ ভোটার ও শাহ আলমের অনুসারীদের মাঝে উদ্দীপনা কমেনি। সাধারণ ভোটারদের একাংশ মনে করেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং বিপদে-আপদে পাশে থাকার কারণে শাহ আলমই বাইশগাঁও ইউনিয়নের যোগ্য অভিভাবক হতে পারেন। তবে তৃণমূল বিএনপির কোন্দল নিরসন করে দল যদি একক অবস্থান ধরে রাখতে না পারে, তবে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মনোহরগঞ্জের বাইশগাঁও ইউনিয়নের এই নির্বাচনী সমীকরণ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে মো. শাহ আলম মাঠের লড়াইয়ে কতটা সুবিধা করতে পারেন, তা দেখতে এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
আপনার মতামত লিখুন :