• ঢাকা
  • বুধবার, ২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২৭ মে, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ২৭ মে, ২০২৬
Designed by Nagorikit.com

বড় হওয়ার সঙ্গে যেভাবে বদলে যায় ঈদের আনন্দ

কুমিল্লা জার্নাল
[sharethis-inline-buttons]

কুবি প্রতিনিধি :

​ক্যালেন্ডারের পাতায় জিলহজ্ব মাস আসতেই বাতাসে পাওয়া যায় এক চিরচেনা সুবাস। জানান দেয় দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। তবে জীবনের পরিক্রমায় আর বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এই আনন্দের রঙটা কেমন যেন বদলে যায়। শৈশবের সেই বাঁধভাঙা উল্লাস পরিণত বয়সে এসে রূপ নেয় গভীর এক উপলব্ধি আর দায়িত্ববোধে। 

​একদা ঈদের যে আনন্দ ছিল চাঁদ দেখা, দল বেঁধে পাড়ায় পাড়ায় কোরবানির গরু দেখা আর বড়োদের কাছে গল্প শোনার সোনালি নস্টালজিয়া আজ জীবনের ব্যস্ততায় তা রূপ নিয়েছে ভিন্ন মাত্রায়। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে এই ঈদের আমেজ জমে থাকে আরো ব্যাপক আগ্রহ-উদ্দীপনায়। ক্যাম্পাস জীবনের একঘেয়েমি আর স্বাদহীন খাবার খেতে খেতে যখন মায়ের হাতের রান্নার জন্য মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে, ঠিক তখনই ঈদ নিয়ে আসে বাড়ি ফেরার পরম উপলক্ষ্য।

সকালের অ্যালার্ম বাজার আগেই ঘুম ভেঙে যাওয়া এবং তাড়াহুড়ো করে সব গুছিয়ে বাসস্ট্যান্ডে ছুটে  যাওয়া, শেষমেষ গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির দরজায় কড়া নাড়া আর ভেতর থেকে মায়ের দরজা খুলে আবেগভরা চোখে তাকিয়ে বলেন, “বাবা, তুই এসেছিস?” এই মুহূর্তটাই যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঈদের প্রকৃত আনন্দ। 

ঈদের এই অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জুনাইদ আল হাবিব বলেন, “ছোটোবেলার ঈদ মানেই ছিল বাবা-মায়ের কাছে আবদার আর চিরচেনা কিছু আনন্দ। সকাল সকাল গোসল সেরে নামাজ তারপর কোরবানি। আজ বাবা-মা নেই, কিন্তু বড় ভাই ও ভাবির স্নেহ-ভালোবাসা সেই অভাব পূরণ করে দিয়েছে। শৈশবের সেই ঈদের আমেজটা আর আগের মতো নেই। ক্যাম্পাস লাইফে এখন ঈদ মানে কেবল বাড়ি ফেরা আর সেই চিরচেনা মানুষগুলোর সাথে কাটানো কিছুটা মুহূর্ত। ​সব হারিয়েও আপন মানুষগুলো আর বাড়ির শান্তির নীড়েই লুকিয়ে আছে আমার ঈদের আসল আনন্দ।”

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আনিকা ইসলাম সুমাইয়া বলেন, ​”ছোটোবেলার কোরবানির ঈদ ছিল এক অন্যরকম আনন্দের নাম। কোরবানির পশু কেনা, তার যত্ন নেওয়া, নতুন জামা আর আত্মীয়স্বজনের ভিড়ে উৎসবের আমেজ ছিল সতেজ। কিন্তু বড় হওয়ার সাথে সাথে সেই আনন্দের রূপ বদলে গেছে। যুক্ত হয়েছে দায়িত্ব, ব্যস্ততা আর কোরবানীর প্রকৃত শিক্ষা ত্যাগ ও ভাগাভাগি। শৈশবের সেই সরল আনন্দ আর ফিরে না পেলেও, সেই সুন্দর স্মৃতিগুলোই ঈদকে করে তোলে আরও আবেগময়।”

গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শরীফুল আলম বিজয় বলেন, “ছোটোবেলায় কোরবানির ঈদ মানে ছিলো বাবার হাত ধরে হাটে যাওয়া, পছন্দের পশু বাড়িতে এনে খাওয়ানো, আর কার গরু কত বড়ো তা নিয়ে বন্ধুদের সাথে তুমুল প্রতিযোগিতা। বয়স বাড়ার সাথে সাথে অনুভূতির রঙ বদলেছে। এখন বুঝি, কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়; এটি ত্যাগ, ধৈর্য আর আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের শিক্ষা। আনন্দের জায়গাটা এখন নিয়েছে দায়িত্ববোধ, পরিবারের পাশে থাকা আর গরিব মানুষের মুখে হাসি ফোটানো।”

আইন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফারিহা নিশাত বলেন, ​”ছোটোবেলায় ঈদ ছিল কাজিনদের সাথে আড্ডা, নতুন জামা লুকিয়ে রাখার লুকোচুরি আর সালামি তোলার আনন্দ। আজ সেসব শুধুই মধুর স্মৃতি। ​এখন সবাই জীবনের প্রয়োজনে একেক প্রান্তে ব্যস্ত। তবে ঈদের আনন্দ ফুরিয়ে যায়নি, রূপ বদলেছে। যান্ত্রিক জীবন থেকে ছুটি নিয়ে নিজের শহরে ফেরা আর আপন মানুষদের কাছে পাওয়ার নামই এখন ঈদ। বাড়ি ফিরে বাবা-মায়ের মুখ দেখতে পাওয়াটাই জীবনের সবচেয়ে বড় ঈদ।”

[sharethis-inline-buttons]

আরও পড়ুন

  • লিড এর আরও খবর