কুবি প্রতিনিধি:
নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখার কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলো। প্রশাসনিক বিচারহীনতাকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার কারণ বলছেন ছাত্রসংগঠনের নেতারা।
বুধবার (২৯ জুলাই) নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন কমিটির বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের মো: আমিনুর বিশ্বাসকে সভাপতি এবং পার্থ সরকারকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দুই সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রস্তাব কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের কাছে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়।
গত ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ। এদিকে কমিটি ঘোষণাকে হাস্যকর বলার পাশাপাশি সবরকম পরিস্থিতিতে নিষিদ্ধ সংগঠনটির কার্যক্রমকে প্রতিহত করার কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলো।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, কুবি শাখার সংগঠক মারুফ শেখ বলেন, ‘ছাত্রলীগ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে ইতোমধ্যে ঘৃণিত। তাই এই ঘৃণা ও বিদ্বেষের রাজনীতি জিইয়ে রাখতে আজকের এই কমিটিও ঘোষণা। আমরা এটাকে জুলাইয়ের মতোই ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করছি। একইসাথে শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানাই ছাত্রলীগের বিচারের যৌক্তিক দাবি তুলতে ও সোচ্চার থাকতে। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিজেদের অধিকারের রাজনীতি করবে ও পরিবেশ গড়ে তুলবে, এটাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিলো।’
কুবি শাখা ছাত্র শক্তির সংগঠক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক নাঈম ভূঁইয়া বলেন, ছাত্রলীগ বাংলাদেশের একটা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন। আমরা যতদিন এই ক্যাম্পাসে আছি, ছাত্রলীগ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক্সিস্ট করতে পারবে না, এইটুকু গ্যারান্টি দিতে পারি। ছাত্রলীগকে যেভাবে প্রতিহত করা দরকার, আমরা ঐভাবেই প্রতিহত করব। ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের মতো জঙ্গি সংগঠনকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক্সিস্ট করতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।
এ বিষয়ে কুবি শাখা ছাত্র শিবিরের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন আবির বলেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটি ঘোষণাকে আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ স্পষ্টভাবে ফ্যাসিবাদী রাজনীতি, সন্ত্রাস ও শিক্ষাঙ্গণে দলীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ব্যক্ত করেছে। সেই বাস্তবতায় অতীতের ঘটনাগুলোর বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত না করেই তাদের মাথাচাড়া দেয়া শিক্ষার্থীরা কখনো গ্রহণ করবে না এবং এদের প্রতিহত করবে।
জুলাই আন্দোলনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নব্য সভাপতি আমিনুর বিশ্বাসের শিক্ষার্থী বিরোধী কার্যক্রম উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় এই আমিনুর বিশ্বাসরা যেভাবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর সন্ত্রাসী হামলা করেছে তার বিচার নিশ্চিত না হওয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতা। যেখানে সরাসরি হামলাকারীদের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করেছে, সার্টিফিকেট বাতিল করেছে, সেখানে কুবি প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী ছাত্রলীগকে আমরা যেখানে পাবো প্রতিহত করব। তাদের অপকর্মের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চলবে।
কুবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, সাধারণ শিক্ষার্থী সহকারে সকল ছাত্র সংগঠনগুলো এই কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করবে। সরকার তাদেরকে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, কোনোভাবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী তাদেরকে মেনে নিবে না। আমরা তথ্য পেয়েছি কমিটিতে যারা স্থান পেয়েছে তাদের কেউই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থান করছে না। এধরনের কমিটি সম্পূর্ণ হাস্যকর।
তিনি আরও বলেন, মূলত সন্ত্রাসীদেরকে আরও উচ্ছৃঙ্খল করার জন্য সন্ত্রাসী সংগঠন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ এ ধরনের কমিটি ঘোষণা করেছে। যে ছাত্রলীগের হাতে জুলাই আন্দোলনে সাধারণ ছাত্রদের রক্ত লেগে আছে, যাদের হাতে ছাত্রদল ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠন নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়েছে, ঐ সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের কাউকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌহদ্দির মধ্যে কাউকে বরদাস্ত করা হবে না। তাদের কাউকে যদি ন্যূনতম উচ্ছৃঙ্খল কাজে পাওয়া যায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় এই সন্ত্রাসী সংগঠনের কোনো সদস্য যেন কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে, কুবি শাখা ছাত্রদল এখন থেকে সর্বদা তৎপর থাকবে।
[sharethis-inline-buttons]
আপনার মতামত লিখুন :